ইসমাইল হোসেন স্বপন: রবিবার ছিল ফাদার মারিনো রিগনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী। মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু, শিক্ষানুরাগী, অনুবাদক, কবি ও সাহিত্যিক ফাদার মারিনো রিগন ১৯২৫ সালে ৫ ফেব্রুয়ারী ইতালির ভিল্লাভের্লা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। এরপর খ্রীষ্ট এ ধর্মযাজক তার জীবনের সবচেয়ে বেশি সময় কাটান বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের বাগেরহাট জেলার মোংলার শেহলাবুনিয়া পল্লীতে।
শেহলাবুনিয়া থাকাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় জন্মমাটি ইতালিতে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৭ সালের ২০ অক্টোবর ফাদার মারিনো রিগন মৃত্যু বরণ করেন। কিন্তু অন্তিম ইচ্ছানুযায়ী ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর ফাদার রিগনের মরদেহ ইতালি থেকে এনে মোংলার শেহলাবুনিয়ায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
ফাদার রিগন ইতালি নাগরিক হলেও বাংলাদেশ সরকার ২০০৮ সালে তাঁকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব প্রদাণ করেন। এছাড়া ২০১২ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য তাকে মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদাণ করা হয়। লালনের সাড়ে তিনশো গান, গীতাঞ্জলিসহ রবীন্দ্রনাথের ৪৮টি বই এবং কবি জসিম উদ্দিনের নক্সীকাঁথার মাঠ, নির্বাচিত কবিতা, সুজন বাদিয়ার ঘাট ইতালি ভাষায় অনুবাদ করে বাংলা সাহিত্যে উচ্চ আসনে আসীন হয়ে আছেন ফাদার মারিনো রিগন।
ফাদার মারিনো রিগন দ্বিতীয় মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার দিনব্যাপী সেন্ট পলস উচ্চ বিদ্যালয়, ফাদার মারিনো রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ও মোংলা পোর্ট পৌরসভার যৌথ আয়োজনে নানা কর্মসুচি পালন করে।
কর্মসুচির মধ্যে ছিল সকালে ফাদার রিগনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, সেন্ট পলস হল রুমে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া ফাদার মারিনো রিগনের জীবন ভিত্তিক রচনা ও কুইজ প্রতিযেগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হবে।
অন্যদিকে রিগন স্মরণে রবিবার সকাল ৭টায় সেন্ট পলস ধর্ম পল্লীর আয়োজনে গীর্জায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
