ইতালির RIC একাডেমিতে (ইতালিয়ান ভাষা এবং নাগরিক শিক্ষার ইনিষ্টিটিউট) অনুষ্ঠিত হয় এক বিশেষ মতবিনিময় ও সাংস্কৃতিক সভা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাংবাদিক ও ইতালির জনপ্রিয় পত্রিকা Ytali প্রতিষ্ঠাতা গুইদো মলতেদো, সাংবাদিক পলাশ রহমান, শিল্পী ও পরিচালক সেরেনা ননো, RIC সল্যুশনের পরিচালক নুরুজ্জামান, শিক্ষকা ও গবেষক সান্দ্রা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভেনিসের RIC এডুকেশন সেন্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, RIC একাডেমির পরিচালক দত্তোরেচ্ছা রিতু মিয়া। তিনি বলেন, অভিবাসী বাংলাদেশিরা যাতে নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ এবং নতুন সংস্কৃতির সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেন, স্থানীয় মানুষদের জীবন এবং অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে উঠতে পারেন, এ জন্যেই আমরা এ জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করি। RIC শিক্ষার্থীদের সাথে ইতালিয় শিল্প, সাহিত্য এবং সংস্কৃতির পরিচয় করিয়ে দিতে আমরা চেষ্টা করি।
সাংবাদিক গুইদো মলতেদো বলেন, তার পত্রিকা Ytali ইতালিকে প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে থেকে দেখার চেষ্টা করে। সংখ্যালঘুদের কন্ঠস্বর হয়ে কাজ করে। মানবাধিকারের কথা বলে।
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মলতেদো বলেন, তার জন্ম এবং বড় হওয়া রোমে। ভেনিসের আসার পরে সব কিছু নতুন লাগতো। এখানের মানুষের সংস্কৃতি, কথা বলার ধরণ, চিন্তা করার ধরণ, সব কিছু নতুন লাগতো। সুতরাং নিজের দেশের মধ্যে যদি এতো ‘নতুন’ লাগতে পারে, তবে এক দেশ থেকে অন্য দেশে অভিবাসী হওয়া মানুষদের কাছে- নতুন দেশ, নতুন সংস্কৃতি, নতুন ভাষা কতোটা কঠিন লাগে তা আমি অনুভব করতে পারি।
অনুষ্ঠানে শিল্পী ও পরিচালক সেরেনা ননো শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা জানতে চান, বাংলাদেশের সংগীত কলা বিষয়ে জানতে চান এবং তাদের কন্ঠে বাংলা গান শোনেন। একাডেমির সবাইকে সাথে নিয়ে তিনি ইতালির বিখ্যাত গান- ‘বেল্লা চাও’ পরিবেশন করেন।
গবেষক সান্দ্রা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, নতুন একটি ভাষা শেখার শুরুতে কঠিন মনে হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু হাল ছাড়া যাবে না। নিয়োমিত এবং নিয়মমাফিক চর্চা করলে আপনারাও অল্প সময়ের মধ্যে শুদ্ধ ভাবে ইতালিয়ান বলতে এবং লিখতে পারবেন। নিজের অধিকার এবং সম্মান নিয়ে সমাজের অংশ হয়ে উঠতে পারবেন।
নুরুজ্জামান বলেন, RIC একাডেমি অভিবাসীদের স্থানীয় সমাজের অংশ হিসাবে গড়ে তুলতে চায়। এর মাধ্যমে অভিবাসীরা ভবিষ্যতে আরো বেশি সচেতন, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সম্মানের সাথে বসবাস করতে পারবেন।
গান ও করতালির মধ্য দিয়ে শেষ হয় এই বিশেষ আয়োজন। শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত কণ্ঠে বাংলা ও ইতালিয়ান গান যেনো দুই সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির একটি প্রতীক হয়ে ওঠে।
