• শুক্র. আগস্ট ১৪th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

সালথা’য় বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

জুলাই 1, 2019

 

মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভাগদী উচ্চ বিদ্যালয়ের লক্ষাধিক টাকার গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়ের সভাপতি এ কেএম রওশন ফকির ও প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ের পিছনে (পশ্চিম) পাশে ছাত্র/ছাত্রীদের লাগোনো প্রায় ৫০টি মেহেগুনি গাছের মধ্যে গত সোমবার (২৪জুন) ৬টি মূল্যমান বড় ধরনের গাছ কেটে বিক্রি করে দিয়েছে বিদ্যালয় কতৃপক্ষ। কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের যোগশাজসে এই গাছ টাকা হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন ৬ টি মেহেগুনি গাছের দাম কমপক্ষে দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৬টি গাছের গুড়ি গাছের ডালপালাও পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি সহকারী শিক্ষকরা উপস্থিত থাকলেও তারা এ বিষয় কিছু বলতে নারাজ ।

প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে না থাকায় তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে গাছ কাটা ও বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই গাছ কাটা হয়েছে। তবে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারবেন না এবং পরে এক সময় দেখিয়ে দিবেন বলে তিনি জানান।

বিদ্যালয়ের সভাপতি রওশন ফকির বলেন, গাছ কাটা হয়েছে আমি শুনেছি, তবে রেজুলেশন করার কথা প্রধান শিক্ষকের রেজুলেশন করেছে কি না তা আমার জানা নেই।

স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা, সভাপতি স্কুলে কোন শিক্ষক আসলো, আর কোন শিক্ষক আসলো না তা তিনি দেখভাল করেন না। কমিটির অন্যন্য সদস্যদের সাথে নেই কোন সমজোতা তার মতের সাথে মিলে না অন্য কারও মত। তাই সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মিলে সব কিছু করেন অন্যন্য সদস্যদের কোন মতামতই নেওয়া হয় না। বিদ্যালয়ের এক সদস্য নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক তিনি বলেন, রওশন ফকির সভাপতি হওয়ার পর থেকে স্কুলের শিক্ষার মান কমে গেছে। গত দুই বছর কোন পরীক্ষায়ই ভালো রেজাল্ট পাওয়া যায়নি। কয়েকজন অভিভাবকদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, বিভাগদী উচ্চ বিদ্যালয়টি বহু পুরানো, এর সুনাম ছিলো এক সময়, বর্তমানে অব্যবস্থাপনার কারনে এবং দক্ষতার অভাবে বিদ্যালয়ের হাল খারাপ। অচিরেই বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের মঙ্গলের জন্য দক্ষ ও সবল কমিটি দরকার।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবুল খায়ের বলেন, এভাবে বিদ্যালয়ের গাছ কাটার কোন নিয়ম নাই। প্রতিটি বিদ্যালয়ের কাছ কাটা কমিটি রয়েছে।

এ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার। কোন বিদ্যালয়ের গাছ কাটতে হলে আগে ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশন করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমোদন নিতে হবে। বিভাগদি উচ্চ বিদ্যালয়ের গাছ কাটার বিষয়ে তদস্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজিলা কবির ত্রপা বলেন, বিদ্যালয়ে গাছ কাটার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.