• সোম. সেপ্টে. ২৮th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

ইতালিতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বঙ্গমাতার ৯৩তম ও শেখ কামালের ৭৪তম জন্মবার্ষিকী পালিত

আগস্ট 11, 2023

মিনহাজ হোসেন: ইতালি রোমে যথাযথ মর্যাদায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব-এর ৯৩তম এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল-এর ৭৪তম জন্মবার্ষিকী পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) স্থানীয় সময় বঙ্গমাতা ও শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ইতালি রাজধানী রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের নিয়ে ইতালি নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ শামীম আহসান বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল-এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পরে স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে দূতাবাসের অভ্যর্থনা কক্ষে বঙ্গমাতা, শেখ কামাল’সহ ১৫ আগস্টের সব শহীদ-বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মার শান্তি এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন কামনা করে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

পরবর্তীতে এ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত বাণী পাঠ করেন‌ দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ শামীম আহসানের সভাপতিত্বে ও প্রথম সচিব অসিফ আনাম সিদ্দিকী’র পরিচালনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইতালি আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন, সর্ব ইউরোপ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি কে এম লোকমান হোসেন, মহিলা সম্পাদিকা হোসনে আরা বেগম সহ ইতালি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ আলোচনা অনুষ্ঠানে বঙ্গমাতা ও‌ শেখ কামাল এর ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনা পর্বে রাষ্ট্রদূত মোঃ শামীম আহসান তার বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এবং তাদের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামালের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধ পরবর্তী দেশ গঠনে বঙ্গবন্ধুর ত্যাগী সহযাত্রী হিসেবে বঙ্গমাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সারা জীবনের অনুপ্রেরণার উৎস। একদিকে তিনি যেমন সংসারের হাল ধরেছেন অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর কারাবাসের সময় সাহসকিতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।

শহীদ ক্যাপ্টেন কামাল সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, বহুমাত্রিক এবং সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারী এ ব্যক্তিত্বের সংক্ষিপ্ত জীবন ছিল তার অসামান্য অর্জনে সমৃদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর মতোই তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের অধিকার আদায়ে সোচ্চার আর নির্ভীক। ক্রীড়া ও সংস্কৃতিতে আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি আজীবন কাজ করে গেছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার অভিযাত্রায় তার প্রদর্শিত পথ, আদর্শ এবং দিক-নির্দেশনা আজও এক অনুকরণীয় মডেল। শেখ কামালের জীবন ও আদর্শ সবসময় আমাদের কাছে, বিশেষ করে যুব সমাজের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এবং শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল-এর প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন এবং দেশের জন্য তাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও অনুকরণীয় জীবনাদর্শের কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ইতালিতে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধা, ইতালিস্হ বাংলাদেশি রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং নারী সংগঠনের নেতাকর্মীরাসহ বাংলাদেশ কমিউনিটির সম্মানিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.