
মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়ায় গ্রামের একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের দোসরদের তান্ডবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে এলাকাবাসী। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় উপজেলার বড়খারদিয়া বাজারে এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে এলাকাবাসী।
বাচ্চু রাজাকারের দোসরদের শাস্তি দাবী করে এসময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আবু বকর ছিদ্দিক, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি খোরশেদ মীর, ইমরুল মেম্বার, ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শামীম, যুবলীগের সহসভাপতি আলমগীর মিনাসহ স্থানীয় কয়েকশত নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, স্থানীয় আধিপত্য নিয়ে প্রভাব বিস্তারের লক্ষে গত কয়েক মাস ধরে খারদিয়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা চলছিলো। দুই পক্ষের মধ্যে এক পক্ষ স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন মিয়ার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, অপর পক্ষের মধ্যে রয়েছে একাত্তরের মানবতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামী আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের আত্মীয় ও দোসররা এবং স্থানীয় বিএনপির সভাপতি হুমায়ন খার নেতৃত্বে বিএনপির নেতৃবৃন্দ। যে কারণে রাজাকারের দোসররা ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ এক গ্রুপ হওয়ায় আওয়ামী লীগের পক্ষটি কোনঠাসা হয়ে পড়ে। এরই জেরধরে গত ১১ নভেম্বর সোমবার দুপুরে রাজাকারের দোসররা আওয়ামী লীগের সমর্থীত অন্তত ২০টি পরিবারের বাড়ীঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এতেই তারা ক্ষ্যান্ত হয়নি। এলাকায় বিশৃংখলা সৃষ্টির করার জন্য তারা একেরপর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। এলাকায় বিশৃংখলা সৃষ্টির চেষ্টা করার অপরাধে বিএনপি নেতা হুমায়ন খা ও বকুল কারিকরকে (২৪ নভেম্বর) রবিবার আটক করে পুলিশ। ফের হামলার শংকায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা বাড়ীঘরে ফিরতে পারছেনা। অন্যগ্রামে আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছে তারা। বাচ্চু রাজাকারের দোসরদের গ্রেফতার করে শাস্তি দাবী করেছেন এলাকাবাসী।
এবিষয়ে জাহিদ মিয়া সাংবাদিকদের কাছে মোবাইল ফোনে বলেন, স্থানীয় যদুনন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হুমায়ন খা আমরা গ্রাম্য একদলভূক্ত। আলমগীর মিয়া হাসপাতালে থাকায় এলাকায় এখন কোন প্রকার বিশৃঙখলা নেই। যতদিন তিনি এলাকায় না থাকবেন ততদিন কোন বিশিঙ্খলা হবেনা। আমাদের কেউ কোন প্রকার ঝামেলার চেষ্টাও করেনি। সাধারণ জনগন তাদের বিরুদ্ধে ক্ষেপে উঠেছে।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত যদুনন্দী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর মিয়া মোবাইল ফোনে জানান, স্থানীয় ইমরুল ইসলাম মোল্লা, সিদ্দিক মোল্লা, বক্কার মোল্লা, ওসমান মোল্লা, নান্নু মোল্লা, জুয়েল মোল্লা, তারা মোল্লা, জালাল মোল্লাসহ যাদের বাড়ীঘরে হামলা চালানো হয়েছে তারা সবাই আওয়ামীলীগের কর্মী। তিনি জানান, হামলাকারীরা বাড়ী থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দুরে অবস্থিত আমার (আলমগীরের) ইট ভাটাতেও হামলা চালিয়ে মেশিনপত্র ও কাচা ইট ভাংচুর চালিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি দাবী করেন, বাচ্চু রাজাকারের মামাতো ভাই ছত্তার মিয়ার দুই ছেলে জাহিদ মিয়া ও টুলু মিয়া এবং তার (বাচ্চু রাজাকারের) শ্যালক ইলিয়াস কাজী, সিরু কাজী, জামাল কাজী ও মাহাবুব কাজী নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। তিনি আরো দাবী করেন বাচ্চু রাজাকার ও তার সন্তানদের মদদেই উল্লেখিত ব্যাক্তিরা স্থানীয়ভাবে আধিপত্য প্রকাশ করতে প্রায়শ এধরণের হামলা চালিয়ে আসছে।
সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, দাঙ্গা সৃষ্টির চেষ্টা করার অপরাধে ২৪ নভেম্বর বিএনপি নেতা হুমায়ন খা ও বকুল কারিকরকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতে মাধ্যমে কারাদন্ড দিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমান এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে।
