• বুধ. আগস্ট ২৬th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

ঝুপড়ি ঘরে এক যুগ, সরকারি একটি ঘরের অপেক্ষায় খগেন মন্ডল

আগস্ট 26, 2026

মনির মোল্যা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
‘সরকারি একটি ঘর পেলে পরিবার নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম’—এমন আকুতি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের পূর্ব সদরবেড়া গ্রামের খগেন মন্ডলের। প্রায় এক যুগ ধরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে পলিথিনের ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করছেন তিনি। দীর্ঘদিন মানবেতর জীবন কাটালেও এখনো তাঁর পরিবারের ভাগ্যে জোটেনি একটি নিরাপদ ঘর।

খগেন মন্ডলের পরিবারের সদস্যরা জানান, তাঁদের ঝুপড়ি ঘরের বেড়া বাঁশ ও চাটাইয়ের, আর ছাউনিতে ব্যবহার করা হয়েছে পুরোনো পলিথিন। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি হলে ছাউনি উড়ে যাওয়া কিংবা ঘর ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে থাকতে হয় তাঁদের। অর্থের অভাবে দীর্ঘদিনেও একটি পাকা বা আধাপাকা ঘর নির্মাণ করতে পারেননি তাঁরা।

খগেন মন্ডল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এই ঝুপড়ি ঘরেই বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। ঝড়-বৃষ্টি হলে খুব ভয় লাগে। সাংবাদিকেরা বাড়িতে এসে ভিডিও করে নিউজ করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউ আমাদের খোঁজখবর নেয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সরকারের কাছে একটি ঘর চাই। সরকার যদি আমাদের একটি ঘরের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে পরিবার নিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে পারব।’

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, খগেন মন্ডলের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা এভাবে বসবাস করলেও নিজেদের সামর্থ্যে একটি ঘর নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। সরকারি সহায়তায় একটি ঘর পেলে পরিবারটির মাথা গোঁজার নিরাপদ ঠাঁই হবে।

তালমা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন মিয়া বলেন, সাংবাদিকদের মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে তিনি খগেন মন্ডলের ঝুপড়ি ঘরে বসবাসের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এর আগে খগেন মন্ডল তাঁর কাছে আসেননি। চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি বিষয়টি দেখব। নিজে গিয়ে তাঁদের খোঁজখবর নেব এবং তাঁদের জন্য কী করা যায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করব।’
নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন বলেন, খগেন মন্ডলের পরিবার ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের কাছে টিনের জন্য আবেদন করেছে। তাঁদের আবেদনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব টিনের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রায় এক যুগ ধরে ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করা খগেন মন্ডল ও তাঁর পরিবারের এখন একটাই প্রত্যাশা—সরকারি সহায়তায় একটি নিরাপদ ঘর। একটি ঘর পেলেই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়ে পরিবার নিয়ে একটু স্বস্তিতে বসবাস করতে পারবেন তাঁরা।

২৬ আগষ্ট ২০২৬

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.