
মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে সার সুপারিশ কার্ড বিতরণ ও সরজমিনে ভেজাল সার সনাক্তকরণ বিষয়ক কৃষকদের একদিনের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১৯ নভেম্বর) দিনব্যাপী ফরিদপুর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট আঞ্চলিক গবেষণাগারের আয়োজনে ও সালথা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদের হল রুমে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষাগার “মধুমতি” এর মাধ্যমে ৫০ জন কৃষকের মাঝে মৃত্তিকা নমুনা বিশ্লেষণপূর্বক বিশ্লেষিত ফলাফলের ভিত্তিতে সার সুপারিশ কার্ড বিতরণ করা হয়।
ফরিদপুরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এসএসও কৃষিবিদ মো: কিবরিয়ার সভাপতিত্বে এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অ্যানালাইটিক্যাল সার্ভিসেস উইং এর সম্মানী পরিচালক মো. জয়নাল আবেদিন
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ নূরুল হুদা আল মামুন, ঢাকা কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, কেন্দ্রীয় গবেষণাগার এ.কে.এম জগলুল পাশা, ঢাকা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের উপ-পরিচালক সেলিনা তাসনীন খান, এসআরডিআই অ্যানালাইটিক্যাল সার্ভিসেস উইং এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোছাঃ নাছরীন বেগম, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সুদর্শন শিকদার প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. জয়নাল আবেদিন বলেন, মাটি পরীক্ষা করে সার দিলে সারের পরিমান কম লাগে। এতে এক দিকে কৃষকের অর্থের সাশ্রয় হয়, অপর দিকে কৃষির পরিবেশ ভালে থাকে। কাজেই সময় এসেছে মাটি পরীক্ষা করে সুষম সার প্রয়োগ করার।
কৃষিবিদ সুদর্শন সিকদার, উপজেলা কৃষি অফিসার বলেন, মাটি পরীক্ষার মাধ্যমে মাটির গুনগতমান সম্পর্কে জানা যায়। সারের ব্যবহার সুষম মাত্রায় করতে মাটি পরীক্ষার বিকল্প নাই মাত্রাতিরিক্ত সার ও কীটনাশক ব্যবহার করার ফলে আমাদের মাটি দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। উর্বরতা হারাচ্ছে। কাজেই এক গবেষণায় দেখা গেছে কৃষকরা নিয়মিত মাটি পরীক্ষা করে সার প্রয়োগ করলে বার্ষিক ২০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব। তাই কৃষদের এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
সারা দেশে ভ্রম্যমান মৃত্তিকা গবেষণাগার (এমএসটিএল) নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা এ, কে,এম জগলুল পাশা বলেন, সারাদেশে রবি মৌসুম-২০২৫ এ ৬৪ টি জেলার ৬৪ টি উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা গবেষণাগারের মাধ্যমে প্রায় ৩৫০০ জন কৃষককে বিনা মুল্যে মাটি পরীক্ষার ভিত্তিতে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য মাস ব্যাপী কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. কিবরিয়া বলেন, এটি একটি উদ্বুদ্ধকরণ প্রোগ্রাম। যাতে কৃষকরা নিজ উদ্যোগে মাটি পরীক্ষা করে সুষম সার প্রয়োগ করে। তিনি আরও বলেন, ভেজাল সার সনাক্ত করণ ও সুষম সার প্রয়োগের সার চেনার উপায় বাতলিয়ে দেন। এবং তা পরিহার করার কথা বলেন। পরিশেষে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।
১৯ নভেম্বর ২০২৫
