• শনি. আগস্ট ২৯th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

সালথায় মিথ্যা মামলায় কারাগারে ইমাম, মুক্তির দাবিতে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

মে 18, 2024

মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের সালথায় নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চাঁদাবাজী মামলার স্বাক্ষী হওয়ায় মসজিদের একজন ইমামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৮ মে) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন কারাগারে থাকা ইমামের পরিবার। উপজেলার আটঘর গ্রামে ভুক্তভোগীর বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কারাগারে থাকা আটঘর গ্রামের ইমামের ছোট ভাই লিটন মোল্যা (৩৮) বলেন, আটঘর ইউনিয়নের ১-২-৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য রাজিয়া বেগমের বিরুদ্ধে এলাকার জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি চাঁদাবাজি মামলা হয় আদালতে। ওই মামলার স্বাক্ষী ছিলেন আটঘর জামিয়া মাদানিয়া মসজিদের ইমাম মাওলানা হেদায়েতউল্লাহ ওরফে খোকন মোল্যা (৪৫),  তার চাচাতো ভাই মাওলানা শাহজাহান মোল্যা (৬৫), কমির উদ্দিন মোল্যা (৭৫) ও পান্নু মোল্যা (৪৫)।

মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা আদালত থেকে জামিন পেলেও এই মামলার আসামি আটঘর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার লতিফ মোল্যা (৫৫) আদালতে হাজির হলে তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চাঁদাবাজি মামলার আরেক আসামি মহিলা মেম্বার রাজিয়া বেগম তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া চাঁদাবাজি মামলার স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে গত ১২ মে সালথা থানায় হত্যাচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, মামলা দায়েরের পরে রাতেই পুলিশ আসামিদের বাড়িতে যায়। তখন বাড়িতে পুরুষ সদস্যরা ছিলেন না। পরে বাড়িতে পুলিশ আসার খবর জানতে পেরে খোকন মোল্যা ও শাহজাহান মোল্যাসহ  চারজন থানায় যান। এ সময় পুলিশ খোকন মোল্যাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে রাজিয়া বেগমের চাঁদাবাজি তাকে মামলায় আদালতে চালান করা হয়। ওই মামলায় তিনি এখন কারাগারে বন্দী।

সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, শাহজাহান মোল্যার দুই ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী। কমির উদ্দিনের এক ছেলেও একযুগেরও বেশি মালয়েশিয়া থাকেন। খোকন মোল্যা চার বছর সৌদি আরবে থেকে যথেষ্ট অর্থ উপার্জন করে দেশে ফিরে ইমামতি করছেন। তিনি আরবি লাইনে মাস্টার্স পাশ একজন উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তি। তাদের পক্ষে রাজিয়া বেগমের গলার সামান্য চেইন ছিনতাই করা অসম্ভব। আর তাদের নিকট কোন পিস্তলও নেই যা দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করবে। তারা অবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও খোকন মোল্যার মুক্তি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কমিরউদ্দিন মোল্যার স্ত্রী আয়েশা বেগম (৬৮), পান্নু মোল্যার স্ত্রী আয়েশা বেগম (৩৬), জয়নব বেগম (৪৫), খোকন মোল্যার বড় ভাই দেলোয়ার মোল্যা (৬০), ফহম মোল্যা (৬১), আফতাব মাতুব্বর (৫৫) ও ওহিদ মোল্যা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-নগরকান্দা) মো. আসাদুজ্জামান শাকিল বলেন, নারী ইউপি সদস্যের দায়ের করা হত্যারচেষ্টা ও ছিনতাইয়ের মামলাটি তদন্ত করতে আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিবিড়ভাবে তদন্ত করছি। যদি মামলাটি মিথ্যা হয়, তাহলে তা তদন্তে ওঠে আসবে। আর যদি সত্যি হয়, তাও ওঠে আসবে। আশা করি, মামলার সঠিক ঘটনা দ্রুত উৎঘাটন করতে পারবো।

১৮ মে ২০২৪  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.