
মনির মোল্যা : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার অন্যতম ফসল পাট ও পিঁয়াজ। বর্তমানে ২ মন পিঁয়াজ বিক্রি করে ১ কেজি ইলিশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
এবছর প্রতি মন পিঁয়াজ উৎপাদনে যে ব্যায় হয়েছে, তার অর্ধেক মূল্যে পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে না। পিঁয়াজের মূল্যে কম থাকায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।
রবিবার সালথা সদর বাজার ও সোমবার বালিয়া গািট্ট বাজারে পিঁয়াজ বিক্রি করার সময় কয়েকজন পিঁয়াজ চাষী এ প্রতিবেদককে জানান, এবছরে প্রতি মন পিঁয়াজ উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে- ১২শ’ থেকে ১৪শ’ টাকা। বাজারে প্রতিমন পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪শ’ থেকে ৬শ’ টাকা। বর্তমানে কৃষকের প্রতি মন পিঁয়াজে ৭/৮ শত টাকা লোকসান হচ্ছে। এদিকে বাজারে ভালো ১ কেজি ইলিশ মাছ কিনতে ৯শত টাকা থেকে ১২ শত টাকা লাগে।
অন্যদিকে এক কেজি গরুর মাংস কিনতে ৫২০ টাকা থেকে সাড়ে ৫শত টাকা লাগে। এতে দরিদ্র কৃষক ইলিশ মাছ ও গরুর মাংস ক্রয় করা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এমনকি পবিত্র ঈদ-উল ফিতরে অনেকেই গরুর মাংস কিনতে পারে নাই। ব্রয়লার মুরগীর মাংস দিয়েই ঈদের আনন্দ ভোগ করেছেন।
এই উপজেলার কৃষকরা সারা বছরের সংসার খরচের জন্য পিঁয়াজের উপর নির্ভরশীল। ৩/৪ বছর ধরে পিঁয়াজ চাষীরা এই লোকসানের মধ্যে আছে। একমাত্র পিঁয়াজের দাম কম থাকায় তাদের সকল আশা নৈরাশায় পরিণত হয়েছে। এ অঞ্চলের কৃষকেরা পিঁয়াজের ন্যায্যমূল্যে পেতে সরকারের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।
সরেজমিনে বিভিন্ন হাটবাজারে গিয়ে পিঁয়াজ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবার পিঁয়াজের দাম কম থাকায় যেমন কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, তেমনি ব্যবসায়ীদেরও লাভের চেয়ে লোকসানটা বেশি হচ্ছে। তারপরও লাভের আশায় পেশাগত ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
সালথা সদর বাজারের আড়ৎদাররা বলেন, শুরু থেকে পিঁয়াজের দাম কম থাকায় বেশির ভাগ চাষী পিঁয়াজ বাজারে বিক্রি না করে ঘরে রেখে দেয়।
যার কারণে এবছর ঘরে থাকা অধিকাংশ পিঁয়াজ পঁচন ধরেছে। একদিকে পিঁয়াজের পঁচন, অন্যদিকে মূল্যে কম, এই দুই সমস্যার মধ্যে পড়ে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। বাজারে পন্য কম আমদানি হওয়ায় আড়ৎদারদেরও কিছুটা লোকসান হচ্ছে।
পাশাপাশি পিঁয়াজ বাজারের ইজারাদারেরও লোকসানের ভাগ নিতে হচ্ছে। পিঁয়াজের মুল্যে কম থাকায় আগামী বছরে পিঁয়াজের আবাদ কমে যেতে পারে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মাদ বিন ইয়ামিন বলেন, বাংলাদেশে প্রচুর পিঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। আর বাঙ্গালীরা ইন্ডিয়ান পিঁয়াজ খাচ্ছে। এদেশের কৃষকের পিঁয়াজ ঘরে পঁচতেছে। ৩/৪ বছর ধরে লোকসানে আছে পিঁয়াজচাষীরা। এভাবে চলতে থাকলে দেশের কৃষি ব্যবস্থা হারিয়ে যেতে পারে।
