রোম নগরী যেমন একদিনে তৈরি হয়নি, তেমনি একদিনে হয়নি রোমে বাংলাদেশী কমিউনিটির অবস্থান, রয়েছে উজ্জ্বল ইতিহাস। ৭১এ দেশ স্বাধীনের পর থেকেই বাংলাদেশীরা ইতালি আসতে শুরু করে। নিজেদের অধিকার আদায়ে সদ্য স্বাধীন হওয়া বাঙালিরা রোমে এসেও ধীরে ধীরে সংগ্রামী হয়ে ওঠে, নিজেদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।
মনিরুজ্জামান মনির: বাংলাদেশ সমিতি, ইতালির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি লুৎফর রহমান খানের নেতৃত্বে বৈধভাবে ব্যবসা করাসহ রয়েছে স্টে পারমিট বা পেরমেচ্ছো দি সৌজন্য ও মানবিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস। তবে ৯০ এর পর থেকে বাংলাদেশীদের অবস্থান বেশ শক্ত হয়। কমিউনিটি বড় হওয়ায় সমস্যার সাথে সাথে চাহিদাও বাড়তে থাকে। প্রয়োজন হয় সেই সমস্যা থেকে বের হয়ে এগিয়ে যাওয়ার। সেপ্রেক্ষিতে কোন না কোন ভাবে দাঁয়িত্ব এসে পড়ে বাংলাদেশ সমিতির উপর। এতে করে সমিতির নির্বাচন থেকে ক্ষমতার নেতৃত্বসহ বাংলাদেশী কমিউনিটি হয়ে যায় দুই ভাগে বিভক্ত। আজো দ্বিধাবিভক্ত রোমের বাংলা কমিউনিটি।
প্রায় দশেক বছর আগে ইতালির অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের ধসের পর থেকে বাংলাদেশীরা যখন ইতালিয়ান পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছে, তখনই তারা পাড়ি জমিয়েছে বিলেত অর্থাৎ ইংল্যান্ডে। আর তাতে করে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ও কমিউনিটি নেতাদের সাথে সাথে হারাতে হয়েছে সোনালি স্বপ্ন আগামী প্রজন্মকে। এভাবেই চলছে এখনো ছুটে চলা।
যারা এখনো ইতালিতে অবস্থান করছে ,তাদের মধ্যে বিগত কয়েক বছর ধরে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয়ে সে প্রজন্ম আশার প্রদীপ দেখালেও তারা কিন্তু বাংলা কমিউনিটি থেকে অনেক দূরে। অনেকের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তারা বাংলাদেশী কমিউনিটি থেকে দূরে থাকতেই বরং ভালবাসে। শিক্ষিত এই নতুন প্রজন্ম কমিউনিটির পাশে না থাকার পাশাপাশি অন্য দিকে বাংলাদেশ সমিতির মূল সংগঠনের দাবীদার নিয়ে নেতাদের বিরোধ তো রয়েছে। ইতালিতে যেসকল শীর্ষ নেতা রয়েছেন তাদের মধ্যে নূরে আলম সিদ্দিকী বাচ্চু ছাড়া সকলেই কোন না কোন দেশীয় রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত। এতে করে আঞ্চলিকতার পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধও কাজ করছে। তাদের অনেকে যুক্তি তর্কে নেতৃত্বকে আবার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা এবং অবস্থান নিয়ে প্রবাসীদের রয়েছে আশাবিহীন মন্তব্য।
এমতাবস্থায় প্রশ্ন থেকেই যায় বর্তমানে কমিউনিটির নেতারা কতটা সফল? কোন পথে হাঁটছে সেই কমিউনিটি??
কয়েকজন প্রবীন নেতা জানান, কমিউনিটিকে রক্ষা বা সঠিক পথে পরিচালিত করে সামনে এগিয়ে নেয়া আমাদের সহ সকল প্রবাসীর দায়িত্ব। ভবিষ্যত প্রজন্মকে কমিউনিটির প্রতি আগ্রহী করে সংস্পর্শে আনতে হবে। তারা আরো বলে, শুধুমাত্র কমিউনিটির স্বার্থে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে প্রবাসীদের আস্থা অর্জন করতে হবে। অন্যদিকে ইতালিয়ানদের সাথে সর্ম্পক বৃদ্ধি করতে হবে। তবেই এই অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতে পারে ইতালির বাংলা কমিউনিটি।
