• বুধ. এপ্রিল ২৯th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

ধামরাইয়ে সেই শিক্ষক গ্রেফতার

ডিসে. 13, 2022

রাজিউল হাসান পলাশঃ ঢাকার ধামরাইয়ে যাদবপুর স্কুল এন্ড কলেজের অর্থ আত্মসাৎ মামলায় প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলী হায়দার (৪৪) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে স্কুল কলেজের টাকা আত্মসাতের ঘটনায় কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ধামরাই থানায় মামলা করেন। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আলী হায়দার কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

আগে সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে ধানতারা বাজারে এলাকাবাসী স্কুল কলেজের টাকা গড়মিলের ঘটনায় আলী হায়দারকে গণধোলাই দিয়ে হাসপাতালে পাঠায়।

আসামিরা হলেন, যাদবপুর স্কুল এন্ড কলেজের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলী হায়দার (৪৪) ও যাদবপুর ইউনিয়নের ধানতারা গ্রামের সুরজত আলীর ছেলে লিটন মিয়া (৪৫)। আলী হায়দার ভোলা জেলার ভিদুরিয়া গ্রামের সোলাইমানের ছেলে। সে বর্তমানে ধানতারা বাজারে আলালের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

মামলা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা মামলার ২নং আসামী লিটন মিয়ার সহায়তায় প্রধান শিক্ষক আলী হায়দার ২০২২ সালের ৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে এস এস সি পরীক্ষার ফি বাবদ ৮ লক্ষ ৮৪ হাজার ৮ শত ৬০ টাকা আদায় করেন। আলী হায়দার ৫ লক্ষ ৭২ হাজার টাকার রিসিভ দেখান। কিন্তু মামলার বিবাদী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকলিমা আক্তার কেন্দ্র সচিব ও অন্য শিক্ষকদের সাথে নিয়ে ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন প্রধান শিক্ষক আলী হায়দার ২ লক্ষ টাকা জমা করেছেন। বাকি টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন। স্কুল হইতে বার বার বাকি টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য বললে তিনি দেই দিচ্ছি বলে কালক্ষেপণ করতে থাকে। প্রতিষ্ঠানের টাকা না দিয়ে তিনি নানা তালবাহানা করতে থাকেন।

অর্থ আত্মসাৎ সহ নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অপরাধে প্রধান শিক্ষক আলী হায়দারকে কয়েক মাস আগে অব্যাহতি দেন প্রতিষ্ঠান থেকে। এছাড়াও স্কুল কলেজে চাকরি দেয়ার নামে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গতকাল সোমবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ধানতারা বাজারে পাওনাদাররা আলী হায়দারকে গণধোলাই দেন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আজ মঙ্গলবার সকালে সেখান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকলিমা আক্তার বলেন, প্রতিষ্ঠানের টাকা নিজের কাছে বা তসরুপ করার কোন পথ নেই। টাকা ব্যাংকে জমা দিবে প্রয়োজনে সেখান থেকে উত্তোলন করে খরচ করবে। এই টাকা সে আত্মসাৎ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সাল থেকে তিনি অনেক অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত। নানা অভিযোগের কারণে তাকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। অব্যাহতির পরও স্কুলে পিয়ন নিয়োগের বিষয়ে তিনি একজনের কাছ থেকে ৮ লক্ষ টাকা নিয়েছেন।

ধামরাই থানার উপ পরিদর্শক ( এস আই) মফিজুর রহমান মল্লিক বলেন, যাদবপুর বি এম স্কুল এন্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আলী হায়দারসহ দুজনের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের অর্থ তসরুপের মামলা হয়েছে। সেই মামলায় শিক্ষক কে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আরেক আসামি লিটনকে ধরার চেষ্টা চলছে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments