পলাশ রহমান, কলামিস্ট ইতালি
আন্তোনিয় তাইয়ানি, ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এবং মধ্য-ডানপন্থী Forza Italia দলের নেতা। সম্প্রতি নারীদের পোশাক ও মূল্যবোধ নিয়ে একটি মন্তব্য করে বিতর্কে পড়েছেন।
তিনি বলেছেন, তাঁর ছেলের জন্য জীবনসঙ্গী বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে তিনি এমন একজন নারীকে পছন্দ করবেন, যিনি তুলনামূলক বেশি ‘সিরিয়াস’ ও সংযত। প্রসঙ্গক্রমে তিনি তার স্কার্টের দৈর্ঘ্যের কথাও বলেছেন।
এই বক্তব্যের বিরুদ্ধে যারা এতো ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তাঁদের কাছে আমার কয়েকটি সরল প্রশ্ন আছে।
একজন রাজনীতিক মেয়েদের স্কার্টের দৈর্ঘ্য বড় হওয়ার কথা বলেছেন, এতে যারা ক্ষিপ্ত হয়েছেন, প্রতিবাদ করেছেন, তারা কেনো হিজাব পরা, বোরকা পরা মুসলিম নারীদের অপমান করা হলে চুপ থাকেন?
নারীর প্রকৃত স্বাধীনতা কি?
একজন নারী যদি বিনা বাধায় ছোট কাপড় পরতে পারে, যদি সেটাই তাঁর স্বাধীনতা হয়, তাহলে অন্য একজন নারী কেনো বিনা বাধায় নিজেকে ঢেকে রাখতে পারবে না?
একজন নারীকে বোরকা পরতে বাধ্য করা যদি নারী-স্বাধীনতার বিরোধী হয়, একজন নারীকে বোরকা পরতে বাধা দেয়াও কেনো নারী-স্বাধীনতার বিরোধী হবে না?
আমার দৃষ্টিতে, তাইয়ানি নারীকে ছোট করার কথা বলেননি; তিনি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও পছন্দের কথা বলেছেন। অথচ বামপন্থী রাজনীতিকরা এমন ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে যে, শেষ পর্যন্ত তাঁকে ক্ষমা চাইতে হয়েছে।
অন্যদিকে মুসলিম নারীদের যখন ‘ময়লার বস্তা’ বলা হয়, হিজাব বা নেকাব নিয়ে তিরস্কার করা হয়, তাঁদের পোশাক ও বিশ্বাস নিয়ে অপমান-অসম্মান করা হয়, তখন এই প্রতিবাদী কণ্ঠগুলো নীরব থাকে। বোবা হয়ে যায়।
এটা ভণ্ডামি। এটা রাজনৈতিক ছোটলোকি।
ইতালিতে সংখ্যালঘু মুসলিম অভিবাসীদের নিয়ে ডান-বাম, উভয় পক্ষই রাজনীতি করে। বৈষম্য করে। ভোটের রাজনীতিতে বামপন্থীরা সংখ্যালঘুদের পক্ষে থাকার ভনিতা করে, আমার আপত্তি এখানেই।
নির্বাচন সামনে রেখে ডানপন্থীরা এখন যে ঘৃণার রাজনীতি করছে, এটা ভোটের পরে আর থাকবে না। কিন্তু সমাজে ‘ঘৃণা’ থেকে যাবে। মানুষের রাজনৈতিক এবং সহাবস্থানের কালচার বদলে যাবে। যা সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকরস্ত করবে।
