• বৃহস্পতি. এপ্রিল ২৩rd, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

করোণায় দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন জাবি শিক্ষার্থী জাহিদ

মে 23, 2020


কখনও খাবার হাতে রাস্তায় রাস্তায়, কখনও মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, আবার কখনও রাতের আধারে চাল ডাল নিয়ে ছুটে যাওয়া, অসহায় শিক্ষার্থীর পাশে আশার আলো নিয়ে হাজির হচ্ছেন। শুধু নিজের উদ্যোগ বাস্তবায়নই নয়, অন্যকে উদ্যোগ গ্রহণে উৎসাহিত করা এবং নিয়মিতভাবে প্রাথমিক অর্থের যোগানও দিয়ে যাচ্ছেন।

বৈশ্বিক মহামারী করোনার প্রভাবে দেশের দিন মজুর ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের অবস্থা খুবই শোচনীয়। এই পরিস্থিতিতে তাদের কিছুটা সহযোগিতা করার জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোঃ জাহিদ হাসান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪তম আবর্তনের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলায়।

করোনার এই দুই মাসে তিনি ২০ টি ভিন্ন ভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন। হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও জীবাণুনাশক তৈরি, বিতরণ থেকে শুরু করে নিয়মিত খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, রমজানের খাবার ও ইফতার, ঈদ উপহার বিতরণ, পথশিশুদের নিরাপত্তা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ এবং অসহায় শিক্ষার্থীদের কে নিয়মিত আর্থিক সহযোগিতার ব্যবস্থা করেছেন নিজ উদ্যোগে। ইতিমধ্যে প্রায় ১২ লাখ টাকার ২০ টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। ব্যক্তি উদ্যোগে সমাজের বিত্তবানদের নিকট ছুটে গিয়েছেন, নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফান্ড কালেক্ট করেছেন এবং সেই অর্থ দিয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছেন। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০০০ অসহায় পরিবার, ৩৫০ শিক্ষার্থী এবং ৫০ জন পথশিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ক্যাম্পাস জীবনের শুরু থেকেই তিনি বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠনের সাথে কাজ করেন। ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, পথশিশুদের শিক্ষা ও জীবনযাত্রার উন্নয়ন, পরিবেশ রক্ষা, রক্তদান, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নমূলক কাজে সামনে থেকে দিয়েছেন নেতৃত্ব। তার গৃহীত উদ্যোগগুলো সব সময় সর্ব মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

জাহিদ জানান, মানুষ মানুষের জন্য। মানুষের এই দুর্দিনে আমরা ঘরে বসে থাকতে পারি না। এইজন্য করোনা মহামারীর শুরু থেকেই কাজ শুরু করে দেই। বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি টিম গড়ে তুলি। আমাদের কাজ দেখে পরবর্তীতে অনেকেই নতুন উদ্যোগ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অসহায় শিক্ষার্থী যারা টিউশনি করে চলতো, রিক্সা চালক,বটতলার কর্মচারী, ক্যান্টিনবয়, দিনমজুর, মসজিদের ইমাম ও অন্যান্য অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। ব্যক্তিগত অল্প কিছু তহবিল নিয়ে কাজ শুরু করি, পরবর্তীতে আমাদের কাজের ধরণ ও জবাবদিহিতা দেখে অনেকেই এগিয়ে আসে। এসব কাজে আমার অতীত অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন সংগঠনের সাথে কানেক্টিভিটি ভালো কাজে দেয়। আমার সংগঠন জিএসবি, জেইউস্যাড, বাসনা যুব সমাজ, স্কুল ও কলেজের কমিনিউটি গ্রুপ এবং আমার পেইজ I have a dream – Jahid শুভাকাঙ্ক্ষীরা বিশেষ ভূমিকা রাখে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক,কর্মকর্তা নিয়মিত সহযোগিতা করে যাচ্ছে আমাকে। এর মধ্যে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. এএ মামুন স্যার নিয়মিত যোগাযোগ করে অনুপ্রেরণা ও পরামর্শ দেন। টিএসসির পরিচালক অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন, ছাত্র কল্যাণ উপদেষ্টা অধ্যাপক মান্নান স্যার বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেন। ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান জাহিদুল করিম স্যার আমাকে সাথে নিয়ে বেশ কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেন। এছাড়াও অধ্যাপক বশির আহমেদ, তমালিকা সুলতানা ম্যাম, জেবুউন্নেসা ম্যাম, রুবেল স্যার, সিনেট সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন, আশীষ কুমার মজুমদার, সোহেল পারভেজ ও অন্যান্য অনেকেই আমাদের কে নিয়মিত অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন। এই কঠিন সময়ের মধ্যেও সকল ধরণের প্রশাসনিক ও মানবিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম ম্যামের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

তিনি আরও জানান, সরকার একা করোনা মহামারী মোকাবেলা করতে পারবে না। আমাদের কে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের মানবিক উদ্যোগ চলমান থাকবে। শুধু একটা ফোন কলেই পৌছে যাবে ভালবাসার উপহার। তিনি সকল সহযোগিদের কে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments