
রাজিউল হাসান পলাশ : ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের মাদারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা মোসাঃ আফরোজা সুলতানার ছত্রছায়ায় স্কুলের শ্রেণী কক্ষ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন যাবৎ কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা করছে একই গ্রামের মোঃ মোবারক হোসেন।
এলাকাবাসি জানায় মাদারপুর গ্রামের মোবারক হোসেন হলেন মাদারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মোসাঃ আফরোজা সুলতানার স্বামী। আফরোজা সুলতানা দীর্ঘদিন যাবত স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের এই ভাবে তার স্বামীর কাছে কোচিং করাতে বাধ্য করান। যে ছাত্র তার স্বামীর কাছে কোচিং করবে না তাকে পরীক্ষার মধ্যে নাম্বার কম দেওয়া হবে। স্কুলে নাম মাত্র ক্লাস করায় এবং অভিযোগ রয়েছে স্কুলের সাময়িক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করার।
আজ শনিবার (২৭এপ্রিল) সকালে মাদারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় একটি শ্রেণী কক্ষ ও শিক্ষকদের মিলনায়তন কক্ষ ব্যবহার করে মোঃ মোবারক হোসেন নামের ঐ ব্যক্তি প্রায় ৩০জন শিক্ষার্থী নিয়ে কোচিং চালাচ্ছে। কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীরা বলে কোচিং করার বাবদে আমাদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ৩০০-৪০০শত টাকা দিতে হয়। শিক্ষার্থীরা আরও বলে স্যার আমাদের স্কুলের কোন স্যার না। স্যারের বউ আমাদের স্কুলের ম্যাডাম(শিক্ষিকা)। ম্যাডাম আমাদের স্যারের কাছে কোচিং করতে বলেছে। কোচিং না করলে আমাদের পরীক্ষার সময় খাতায় নাম্বার কম দিবে ।
ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ শহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বার বার নিষেধ করা সত্বেও আফরোজা ম্যাডাম সে কথার কোন গুরুত্ব না দিয়ে তার ইচ্ছামত বেআইনি ভাবে স্কুলের কক্ষ খোলে স্বামীকে দিয়ে কোচিং করান। তিনি আরও বলেন,আমরা বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে মৌখিকভাবে জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ ছালাম বলেন, সরকারী স্কুলে ক্লাশরোম ব্যবহার করে বাহিরের লোক কোচিং করাতে পারে না। তবে কে বা কারা কোচিং করায় তা আমার জানা নেই।
কোচিংয়ের শিক্ষক মোঃ মোবারক বলেন, আমি কিছু দিন ধরে স্কুলে বাচ্চাদের কোচিং করাই। স্কুলের চাবি কোথায় পেলেন বললে তিনি বলেন আমার স্ত্রী সুলতানা এই স্কুলের শিক্ষকা তাই আমার কাছে একটি চাবি থাকে। সেই চাবি দিয়ে স্কুলের ক্লাশরোম খোলে বাচ্চাদের পড়াই। তিনি আরও বলেন আমার বাড়ীতে ব্লাকবোড নাই। তাই স্কুলের ব্লাকবোর্ড ব্যবহার করি যাতে বাচ্চাদের পড়াতে সুবিধা হয়।এই জন্য স্কুলে পড়াই।
শিক্ষিকা মোসাঃ আফরোজা সুলতানা বলেন, আমার কাছে স্কুলের একটি চাবি থাকে সেই চাবি দিয়ে স্কুলের ক্লাশরোম খোলে আমার স্বামী কোচিং করায়। আমি সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) মোঃ সাইদুর ভাইয়ের কাছে কোচিংয়ের বিষয়ে বলেছি। মাদারপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসাঃ রাবিয়া খাতুন বলেন, স্কুলের ক্লাশরোম ব্যবহার করে কোচিং করানোর ব্যাপারে আমি কিছু জানিনা। তবে স্কুলে দপ্তরী না থাকায় স্কুলের চাবি আমার কাছে একটি ও আমার সহকারী শিক্ষিকা আফরোজা সুলতানার কাছে একটি চাবি থাকে।
এই ব্যাপারে সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, সরকারী স্কুলে কোচিং করা সম্পুর্ণভাবে নিষিদ্ধ। তবে স্কুলের ক্লাশরোমে কোচিং করানো হয় সেটা আমার জানা ছিল না। যদি স্কুলে কেউ কোচিং করায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। এই ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ কাজী রাশেদ মামুন বলেন, সরকারী স্কুলের ভবন ব্যাবহার করে কোচিং করানোর বিষয়ে আমি জানি না। যদি তথ্য সঠিক হয় তাহলে সহকারী শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
