মনির মোল্যা, নিজস্ব প্রতিনিধি:
দেশের সম্পদ লুটপাট করে একটি মহল বিদেশে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। বিদেশে অবস্থান করেও তারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আ্যডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতনের শিকার অসহায় নেতাকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রিজভী বলেন, দেশের সম্পদ লুটপাট করে একটি মহল বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছে। বিদেশে থেকেও তারা বাংলাদেশের ক্ষতি এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতনের শিকার বিএনপির অসহায় নেতাকর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নগদ অর্থ, সেলাই মেশিন এবং ঘর নির্মাণের সহায়তা দেওয়া হয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলার পাশাপাশি আবাসন সংকটে থাকা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এসব সহায়তা দেওয়া হয়।
আয়োজকেরা জানান, রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে অনেক নেতাকর্মী আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁদের দুর্দশা লাঘব এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিগত সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে
আ্যডভোকেট রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, চাকরি ও কৃষি উপকরণ দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষকে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সেগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনৈতিক আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করা নেতাকর্মী ও তাঁদের পরিবারের অবদান ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। তাঁদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সহযোগিতা করা রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। এ সময় ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, জেলা বিএনপির আহব্বায়ক সৈয়দ মোদারেছ আলী ইছা, সদস্য সচিব কিবরিয়া স্বপনসহ স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
১৪ অক্টোবর ২০২৬
