• মঙ্গল. জুলাই ২১st, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

সালথায় ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি, নির্যাতন ও কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

জুলাই 20, 2026

মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায়, পরে লিবিয়ায় নিয়ে জিম্মি করে অমানবিক নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে অভিযুক্ত মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বড় বাহিরদিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বড় বাহিরদিয়া গ্রামের মতি মোল্লার দুই ছেলে হেমায়েত মোল্লা (৩৮) ও সাজ্জাদ মোল্লা (৩২) ইতালিতে বৈধভাবে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে স্থানীয় অন্তত ৮ থেকে ১০ জনের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু কাউকেই ইতালিতে পাঠানো হয়নি। বরং তাদের লিবিয়ায় নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বক্তাদের দাবি, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগীদের জিম্মি করে রাখা হয়। তাদের ওপর চালানো হয় নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। মুক্তিপণের নামে পরিবারের কাছ থেকে আরও বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়। নির্যাতনের শিকার কয়েকজন দেশে ফিরলেও এখনও কয়েকজনের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেন স্বজনরা।

তাদের অভিযোগ, সাজ্জাদ মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়ায় অবস্থান করে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত থেকে বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে পাঠানোর নামে লোক সংগ্রহ করতেন। আর দেশে অবস্থান করে তার বড় ভাই হেমায়েত মোল্লা সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতেন। দুই ভাইয়ের সমন্বয়ে পরিচালিত এ চক্রের প্রতারণায় বড় বাহিরদিয়াসহ আশপাশের বহু পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

মানববন্ধনে আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারকে নানা ধরনের ভয়ভীতি, হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম বলেন, “হেমায়েত মোল্লা আমাকে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে তার ভাই সাজ্জাদের কাছে আমাকে হস্তান্তর করা হয়। ১৫ থেকে ২০ দিন আটকে রেখে আমার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে আমাকে একটি মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। আমার কাছে থাকা নগদ ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকাসহ বিভিন্নভাবে প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি আমার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত চাই এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

আরেক ভুক্তভোগী মোহাম্মদ মুক্তার বলেন, “আমার ছেলে ও ভাতিজাকে লিবিয়া হয়ে ইতালি পাঠানোর কথা বলে হেমায়েত মোল্লার কাছে সাড়ে ১৮ লাখ টাকা দিই। কিন্তু তাদের ইতালিতে পাঠানো হয়নি। লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয়। পরে যোগাযোগ করলে তারা দায় এড়িয়ে যায়। তখনই বুঝতে পারি, আমরা প্রতারণার শিকার হয়েছি। আমরা দোষীদের বিচার ও আমাদের টাকা ফেরত চাই।”

মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত, নিখোঁজদের সন্ধান এবং মানবপাচারকারী চক্রের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে হেমায়েত মোল্লা বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গত ১৭ জুলাই আমরা একটি মানববন্ধন করেছিলাম। তারই প্রতিক্রিয়ায় আজকের কর্মসূচি হয়েছে। মূলত গ্রাম্য বিরোধের জের ধরে একটি মহল আমাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

২০ জুলাই, ২০২৬

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.