• বুধ. জুলাই ২২nd, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

সালথায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা

জুন 7, 2026

মনির মোল্যা,সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
“অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরের সালথায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুর ১২টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে “গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন” বিষয়ক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. ইলিয়াছুর রহমান।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (এভিসিবি) তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী মোছা. রুবিনা বেগম।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুন সরকার, বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের ফরিদপুর জেলা ব্যবস্থাপক মো. শরিফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রেজাউল করিম, সালথা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রজিৎ মল্লিক, সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম নাহিদসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ও জনবান্ধব ব্যবস্থা। এখানে অল্প সময়ে, স্বল্প ব্যয়ে এবং সহজ প্রক্রিয়ায় বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারী ও প্রতিপক্ষ উভয়েই প্রতিনিধি মনোনয়নের সমান সুযোগ পান এবং আইনজীবী ছাড়াই নিজেদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন। সমঝোতার ভিত্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় থাকে এবং নতুন বিরোধ সৃষ্টির সম্ভাবনাও কমে যায়। বিশেষ করে নারী, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সহজেই এ সেবা গ্রহণ করতে পারে।

কর্মশালায় গ্রাম আদালতের সাফল্যের বিভিন্ন তথ্যও তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত সালথা উপজেলায় মোট ৬৫৫টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে ৯৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং বাস্তবায়িত সিদ্ধান্তের হার ৯৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এ সময়ে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আদায় হয়েছে ৪৪ লাখ ৭৯ হাজার ২০০ টাকা।
এছাড়া দায়েরকৃত মামলাগুলোর মধ্যে ১৮৭ জন নারী আবেদনকারী ছিলেন। বিচার প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণের হার ১৬ দশমিক ০৪ শতাংশ। একই সময়ে ৩৫ হাজারের বেশি নারী-পুরুষকে গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে এবং উচ্চ আদালত থেকে ৪৪টি মামলা গ্রাম আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে এর কার্যকারিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।

৪ জুন ২০২৬

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.