• মঙ্গল. অক্টো. ২৭th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

সখীপুরে একরাতে তিনটি গর্ভবতী গাভির মৃত্যু 

মে 13, 2022

 

ছবি সংগ্রহীত

সখীপুরে একরাতে তিনটি গর্ভবতী গাভির মৃত্যু

 

“বাদল হোসাইন সখীপুর”
টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক কৃষকের একই রাতে তিনটি গর্ভবতী গাভির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এতে করে ওই গ্রামে খামারি ও কৃষকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় কৃষক মো. আজাহার সখীপুর থানাসহ তিনটি দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে উপজেলা পশু সম্পদ বিভাগ ঘাস, খড় ও পশুখাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে রাজধানীর গুলিস্তানে প্রাণি সম্পদ রোগ নিয়ন্ত্রণ ও অনুসন্ধান বিভাগে পাঠিয়েছেন। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা মো: সামিউল বাছির বলেন, খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ওই তিনগাভির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে । উল্লেখ্য, গত ১০ মে রাতে উপজেলার বোয়ালী গ্রামে কৃষক মো. আজহারের তিনটি গর্ভবতী গাভির আকস্মিক মৃত্যু হয়।
এদিকে গতকাল বিকেলে বোয়ালী বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পশুখাদ্য, ওষুধের দোকানদার ও হাতুড়ে পশুচিকিৎসক মোজাম্মেল হককে (৬০) পশুখাদ্য বিক্রির লাইসেন্স না থাকায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। গাভির মৃত্যুর সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আলম। তবে বোয়ালী গ্রামের কৃষক মো. আজাহার তাঁর গাভির মৃত্যুর জন্য ওই গ্রামের পশুখাদ্য ও ওষুধের দোকানদার মোজাম্মেল হককে দায়ী করে তাঁর কাছে (ইউএনওর) অভিযোগ করেছেন বলে তিনি স্বীকার করেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১০মে রাতে হঠাৎ করে উপজেলার বোয়ালী গ্রামের কৃষক আজাহার আলীর তিনটি গর্ভবতী গাভি মারা যায়। ওই তিন গাভির বাজারমূল্য প্রায় চার লাখ টাকা। কৃষক আজাহার দাবি করেন হাতুড়ে চিকিৎসক মোজাম্মেলের পরামর্শে গাভিকে ওষুধ ও ওই চিকিৎসকের দোকান থেকে আনা ভেজাল খাদ্য খাওয়ানোর কারণেই তাঁর তিন গাভির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মো. আজহার বাদী হয়ে সখীপুর থানায়, ইউএনও দপ্তর ও উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা বরাবর তিনটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে বোয়ালী গ্রামের এক কৃষকের এক রাতেই তিন গাভির মৃত্যুতে ওই গ্রামে কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশের বাড়ির মোতাহের মিয়ার তিনটি, আজিজ ও ঠান্ডু মিয়ার ছয়টি গরু নিয়ে তাঁরা চিন্তায় পড়ে গেছেন।
ওই গ্রামের নান্নু মিয়া নামের এক কৃষক  অভিযোগ করেন এক বছর আগে হাতুড়ে চিকিৎসক মোজাম্মেলের পরামর্শে চিকিৎসা করানোর কারণে আমারও তিনটি গরু মারা গিয়েছিল। আমিও মোজাম্মেলের বিরুদ্ধে এখন মামলা করবো।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাজা পাওয়া পশুখাদ্যের ও ওষুধের দোকানদার মোজাম্মেল হক বলেন, আমি খাদ্য ও ওষুধ বিক্রি করি। আমি কোনো চিকিৎসক নই। গতকালও আমার দোকানের লাইসেন্স না থাকায় আমাকে আদালত ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে। আমি লাইসেন্স করার চেষ্টা করছি।
উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা সামিউল বাছির বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর দপ্তরে করা একটি অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। তবে তিনি ১১ মে সকালে গাভি মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাস, খড় ও দোকান থেকে কেনা খাদ্যের তিনটি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাঁদের প্রাথমিক তদন্তে কোনো রোগে নয়, খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণেই গাভি তিনটির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের কৃষকদের আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার জন্য আহ্বান জানান। গরুর রোগ হলে হাতুড়ে চিকিৎসক নয়, প্রাণি হাসপাতালের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি। তবে আমাদের তদন্তে পাওয়া গেলে হাতুড়ে চিকিৎসক মোজাম্মেলের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, কৃষক আজহার থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। তবে অভিযোগ এখনো আমলে নেওয়া হয়নি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, পশু সম্পদ বিভাগ বিষয়টি তদন্ত করছেন। তাঁরা তদন্তে দোকানদার মোজাম্মেলকে দোষী সাব্যস্ত করলে তারপর মামলাটি নথিভূক্ত করা হবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.