• বৃহস্পতি. জুন ২৫th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

ধামরাইয়ে ইউএনও’র চেষ্টায় হারানো ছেলেকে খুঁজে পেলেন বাবা-মা

জুলাই 24, 2021


রাজিউল হাসান পলাশ (ধামরাই): ঢাকার ধামরাইয়ে কালামপুর বাজারে ঘুরে বেড়াচ্ছিলো ৭ বছর বয়সী এক শিশু। ঠিকানা জিজ্ঞেস করতেই জানা যায় শিশুটি বাক প্রতিবন্ধী। পরে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলা পরিষদের সমাজসেবা বিভাগে। এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার চেষ্টায় শিশুটির পরিবারকে খুঁজে বের করে তাকে তুলে দেয়া হয় বাবা-মায়ের কাছে।

শনিবার (২৪ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে নিজের শিশুকে বুঝে নেন বাবা-মা।

এর আগে শুক্রবার রাতে উপজেলার সানোড়া ইউনিয়নের কালামপুর বাজার এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন কালামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি রবিউল করিম। রবিউল করিম শিশুটিকে রাতেই ধামরাই থানায় হস্তান্তর করেন এবং ধামরাই থানা কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে শনিবার সকালে উপজেলা সমাজসেবা বিভাগে রেখে আসে।

পরে এই শিশুকে পাওয়ার ঘটনা নিজের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি। পোস্টটি ধামরাইজুড়ে ব্যাপক শেয়ার হওয়ার মাত্র কয়েক ঘন্টা পর তার বাবা-মা উপজেলা পরিষদে এসে সন্তানের খোঁজ পান।

উদ্ধারকৃত সাগর আশুলিয়ার নবীনগরের কুরগাও এলাকার শিউলি বেগমের ছেলে।

এদিকে ছেলেকে ফিরে পেয়ে আবেগে ভাসছেন শিউলি দম্পতি।

মা শিউলি বেগম জানান, ‘গতকাল সকাল ১০ টায় হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় সে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। এরপর ইসলামপুর বাজারের দিকে গিয়ে লোকজনকে জিজ্ঞেস করলে তারা জানান আমার ছেলেকে উপজেলা পরিষদে ইউএনওর জিম্মায় রাখা হয়েছে। এই খবর ইউএনও ফেসবুকে দিয়েছেন। পরে সেখানে গিয়ে ছেলেকে খুঁজে পাই।’

এসময় তিনি বলেন, ‘ছেলেটা আমার কথাও বলতে পারে না। কোথাও গেলে তো কাউকে বলতেও পারবে না কোথায় তার বাবা-মা থাকে। এজন্য সবসময় তাকে চোখে চোখে রাখি। তবুও গতকাল রাস্তায় গিয়ে আর ফিরলো না। ছেলেকে হারিয়ে আমার সুখের রাজ্যটা শূন্য হয়ে গিয়েছিল। সন্তান হারানোর যন্ত্রণায় বাকরুদ্ধ ছিলাম। দুইদিন পর ছেলেকে ফিরে পেয়ে মনে হচ্ছে প্রাণ ফিরে পেয়েছি। ছেলে ফিরে আসায় সাত রাজার ধন ফিরে পেয়েছি।’

এবিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি বলেন, সকালে বাচ্চাটিকে আমাদের হেফাজতে পাওয়ার পরপরই তার বাবা-মাকে খুঁজে পেতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিসহ পোস্ট করি। এছাড়া অন্যান্যদেরকেও খোঁজ পেলে জানানোর অনুরোধ করি। পরে মাত্র কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে শিশুটির পরিবারের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর তাকে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.