• সোম. সেপ্টে. ২৮th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

“মায়েরা তো পরশ পাথর”: ইফতেখায়রুল ইসলাম

ফেব্রু. 19, 2020

‘ফোনটা দাও, ওর সাথে একটু কথা বলি’!

হঠাৎ কান্না জড়ানো কন্ঠে ফোনের অপর পাশ থেকে ছেলেটি বললো, ভাই মায়ের পা টা কাটতে হবে! পা কি কাটবো? রক্তের সম্পর্কের কেউ নই, উত্তর কী দেবো বুঝছিলাম না! সবকিছু জেনে মনে হলো, পা যদি কেটেও ফেলা হয় মাকে তো ছোঁয়া যাবে, আলতো করে চুমু খাওয়া যাবে, ভালবাসাও  যাবে! সন্তান নয়তো মায়ের কাটা পায়ের অবলম্বন হয়ে যাক। কাছের কেউ না হয়েও হ্যা সূচক উত্তর দিলাম। আহা মা! এক পা কাটা যাক, তাও মাথার উপর ছায়া হয়ে থাকো!

অফিসের উল্টো পাশ দিয়ে ছেলেটি তাঁর মাকে নিয়ে এ্যাম্বুলেন্সে করে যাচ্ছিল, ফোন করে বললো উল্টো পাশে আছি ভাইয়া। কন্ঠে যতদূর কাঠিন্য এনে বলা যায়, বললাম “আমি অসুস্থ মানুষ দেখতে পারিনা”!  আহত কন্ঠস্বরে ওর জবাব ‘আচ্ছা’! কিভাবে বুঝাই মায়েদের অসুস্থ হতে হয়না, অসুস্থ মা দেখে আমি সম্পর্কহীন এই ছেলে অভ্যস্ত নই। কেন মায়ার বাঁধনে জড়াবো বারবার? আমার মত পিতা মাতা হারানো সন্তানকেই মানুষ কেন বারবার মা হারানোর কষ্টে পোড়াবে?

রাত যত গভীর হয়, দুঃখ তখন আরও গভীরতর হয়। হঠাৎ মনে হলো মনের গভীর কোণে কোনো এক মায়ের জন্য তীব্র টান অনুভব করছি। ফোন দিতেই চিৎকার করে কান্নার শব্দ পেলাম। সে কি তীব্র যন্ত্রণা! সবচেয়ে খারাপ সন্তানও সম্ভবত চায় তার মা বেঁচে থাকুন। কান্নার মাঝে সেই মা থেকে থেকে বলছে ‘দাও ওর সাথে একটু কথা বলি’!  কখনো দেখা হয়নি,কথা হয়নি.. এ কেমন নিদারুণ কষ্টের ভালবাসা। ছেলেটি বললো ‘ ভাই দোয়া করেন, আল্লাহ আমার মাকে কবুল করে নিক’! জানি এমন প্রার্থনা করতে হয়না কিন্তু আমারও মনে হতে থাকলো মহান স্রস্টা হয় সুস্থ করে দিন, নয়তো তাঁর সন্তানের চাওয়াকে কবুল করে নিন।

মায়েরা কেন অসুস্থ হবে সেটাই বোধগম্য হয় না। মায়েরা তো পরশ পাথর যারা দুনিয়ার মুখ দেখান, ভালবাসেন, মানুষ করেন!  তাঁদের অসুস্থ হলে কি চলে? কেন বারবার একের পর এক মা বুক খালি করে চোখের সামনে থেকে হারিয়ে যাবেন? অতি আদরের, ভালবাসার সন্তানদের বুঝি আর ভালবাসা পেতে হয় না! কেন সন্তানদের কাছ থেকে তাঁদের  মা বলে ডাকার অধিকারটুকু হারিয়ে যাবে? কেন তাঁদের মাথার উপরের শেষ ভালবাসার ছায়াটুকু থাকবে না?

মায়েরা ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন, ভালবাসায় থাকুন কিন্তু সন্তানদের একা ফেলে কোথাও হারিয়ে যেয়েন না প্লিজ.. !

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

লেখক: অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন), ওয়ারী বিভাগ, ডিএমপি, ঢাকা।।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.