• মঙ্গল. সেপ্টে. ২২nd, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

সালথায় পাট কাটা ও আঁশ ছাড়ানোর ধুম পড়েছে

জুলাই 29, 2018

মনির মোল্যা : ফরিদপুরের সালথায় পাট কাটা ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলার নিম্ন অঞ্চলে কৃষকরা আগেই পাট কেটে পানিতে পঁচিয়ে আঁশ ছাড়ানোর কাজ শুরু করেছে। উচু এলাকায় কৃষক-কৃষানীরা রাস্তা-ঘাট ও বাড়ির আঙ্গিনায় পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। যদিও এবার পাটের উৎপাদন ভাল হয়নি তারপরও এই অঞ্চলের মানুষ এখন পাট নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার মোট আয়তন ১৮৫.১১ বর্গ কিলোমিটার। অধিকাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। কৃষকের পাট ও পিয়াজ অন্যতম ফসল। কৃষকের চাষাবাদী জমির পরিমান ১৩ হাজার ৬শ’ ৭৫ হেক্টর। এখানে ৩০ হাজার ১শ’ ২২ টি কৃষি পরিবার রয়েছে। এ বছরে ১২ হাজার ৯০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। বীজ বপন করার ৪০/৫০ দিন পরেই পাটক্ষেতে বাচট দেওয়া হয় বা ছোট ছোট পাট কেটে পঁচানো হয়। এটা এই এলাকায় বাচপাট বলে পরিচিত। বাচপাট কাটার ১ মাস পরেই বড় পাট কাটা হয়ে থাকে। প্রথম দিকে আবহাওয়া পাটের অনুকুলে না থাকায় কিছু জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে উপজেলার প্রতিটি গ্রামে পাট কাটার ধুম পড়ে গেছে। এরমধ্যে আটঘর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, পুটিয়া, খাগৈড়, সেনহাটি, সোনমানশাহ, ভাওয়াল ইউনিয়নের পুরুরা, শিহিপুর, বারখাদিয়া, ইউসুফদিয়া, গট্টি ইউনিয়নের ভাবুকদিয়া, বালিয়া, জয়ঝাপ, আড়–য়াকান্দি, দিয়াপাড়া, লাহিড়ি পাড়া, আগুলদিয়া, ফুকরা, রামকান্তপুর ইউনিয়নের বাহিরদিয়া, রামকান্তপুর, মদনদিয়া, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের পুড়াগদি, মুরাটিয়া, আজলপট্টি, নওপাড়া ও খালিশপট্টি গ্রামের নিচু মাঠ, খাল-বিলে পাট কাটা ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ করতে দেখা গেছে। এদিকে সোনাপুর, বল্লভদি, যদুনন্দী ইউনিয়নের উচু এলাকার অধিকাংশ কৃষক ও কৃষানীরা বাড়ির আঙ্গিনায় পাটের আঁশ ছাড়াচ্ছেন। চারিদিকে সোনালী আঁশ পাটের গন্ধে আত্মহারা হয়ে ওঠছে কৃষক।

বিভিন্ন ইউনিয়নের পাট চাষিরা এ প্রতিনিধিকে বলেন, পাটের বীজ বপনের পর থেকেই প্রাকৃতিক দূর্যোগ শীলা বৃষ্টি ও ভারী বর্ষনে নিচু জমির পাট নষ্ট হয়ে গেছে। কয়েকদিন আগে থেকে পাট কাটা শুরু হয়েছে, আর ১০/১৫ দিনের মধ্যে সকল এলাকার পাট কাটার কাজ শেষ হয়ে যাবে। পাট যে অবস্থায় আছে, তাতে পাট ছাড়ানোর কাজ শেষে আগের তুলনায় এবার উৎপাদন কম হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মাদ বিন ইয়ামিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ শীলা বৃষ্টি ও ভারী বর্ষনের কারণে এবার পাটের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যেই নিম্ন অঞ্চলগুলোতে কিছু পানি এসেছে। এসব এলাকার পাট চাষীরা পাট পঁচানো ও আশ ছাড়ানোর কাজ শুরু করেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.