
রাজিউল হাসান পলাশ (শিবালয়, জাফরগঞ্জ, তিশোরী চর থেকে ফিরে): মানিকগঞ্জের শিবালয়, জাফরগঞ্জ, তিশোরী চর এলাকার পদ্মা ও যমুনায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চলছে মা ইলিশ শিকার। স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি সত্বেও শত শত ইলিশ ধরার নৌকা লক্ষ্য করা যায় নদীতে। গেলো এক সপ্তাহে ১০৯ জন জেলে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে তবু থামছে না মা ইলিশ শিকার।

ইলিশ প্রজনন মৌসুম ৯ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নদীতে ইলিশ শিকার, ক্রয়-বিক্রয়, মজুদের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানছেন না জেলেরা। মানিকগঞ্জের শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুরের পদ্মা-যমুনা অংশে মা ইলিশ শিকার চলছেই। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলেও মা ইলিশ শিকার বন্ধ হচ্ছে না।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) সরেজমিনে নদীতে দেখা যায়, পদ্মা-যমুনার অংশে মৌসুমি জেলেদের মা ইলিশ শিকারের দৃশ্য। নদীতে ভাসছে শত শত ইলিশ শিকারের নৌকা। প্রতিদিন জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। বিকেলের দিকে হঠাৎ পুলিশের অভিযান ইলিশ ধরার নৌকা নিয়ে যে যে দিকে পারছে ছুটছে, পুলিশ দুটি নৌকা ধরতেও সক্ষম হয় কিন্তু দুই ঘন্টা পরে দেখা যায় আবার স্বাভাবিক নিয়মেই চলছে ইলিশ ধরা।

গেলো এক সপ্তাহে জেলায় ১০৯ জন জেলেকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও ২২ জনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পাশাপাশি এক মেট্রিক টন ইলিশ ও ১০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে মাছ ধরার বেশ কিছু নৌকা। তা ছাড়া র্যাব-৪ একটি দল কয়েক দিন আগে আরিচা ঘাটে গুদামে অভিযান চালিয়ে প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যের ইলিশ ধরার কারেন্ট জাল উদ্ধার করে পরে তা পুড়িয়ে ফেলা হয়। জব্দ ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদরাসায় বিলিয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এফ এম ফিরোজ মাহমুদ মুঠোফোনে বলেন, প্রতিদিনই আমাদের মৎস্য অফিস, পুলিশ, আমি ও এসিল্যান্ড নদীতে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালাই। প্রতিদিনই জেলেদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযান পুরোপুরি সফল করার জন্য সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে।
