• শনি. এপ্রিল ১৮th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

ধামরাইয়ে নেতাকর্মীদের রোষানলে সাবেক এমপি এম এ মালেক

নভে. 11, 2019

রাজিউল হাসান পলাশঃ ঢাকার ধামরাই পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গত পাঁচবছর এমপি থাকাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, তার স্ত্রী, মেয়ের জামাই, ছেলের অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্মের কথা বক্তব্যে তুলে ধরেন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের আওয়ামী নেতারা। দলীয় নেতাকর্মীদের চেপে রাখা ক্ষোভ প্রকাশ করায় সম্মেলনে উপস্থিত সাবেক এমপি এম এ মালেক চরম বিপাকে পড়ে যান। এম এ মালেক তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ। মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবি করেন।

ধামরাই পৌরসভার ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বায়রা সভাপতি স্থানীয় সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব বেনজীর আহমদ বলেন, দলীয় কোন্দল ছাড়তে হবে নিজেকে সাধারণ মানুষের কাতারে ভাবতে হবে। পদ পেয়ে দেশের জনগণকে ও দলীয় নেতা কর্মীদের ভুলে গেলে চলবে না। মনে রাখতে হবে আমার জন্য একজন মানুষও যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। দেশনেত্রী শেখ হাসিনার আমলে একজন সাধারণ মানুষও যেন অযথা হয়রানি মামলার শিকার না হন। কাউকে হেয় করে কেউ বড় হতে পারে না।

তিনি বলেন, পদ পেয়ে ক্ষমতার অহংকার করা যাবে না এতে দলীয় কোন্দল সৃষ্টি হয়। সভায় ধামরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও  সাবেক সাংসদ আলহাজ্ব এম এ মালেক কে উদ্দেশ্য করে বলেন, বিগত সময়ে ধামরাই পৌরসভার মেয়র, কাউন্সিলর, ও বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সাধারণ মানুষকে মিথ্যা ও হয়রানি মূলক মামলা দেয়া হয়েছে আপনি সে সময়ে সাংসদ ছিলেন কিন্তু আপনি সে মামলা গুলি সংগঠনের কারন জানতে চাননি বা সমাধান করেননি যা দলের উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আমি চাইবো ভবিষ্যতে ধামরাই আওয়ামীলীগের কোন সদস্য অন্য কোন সদস্যকে শত্রু ভাববে না কেউ কারোও ক্ষতি করবে না।

তিনি আরোও বলেন, এম এ মালেক এমপি থাকাকালীন আমাকে কাজ করার কোনো সুযোগ দেয়নি। আমার নামটি পর্যন্ত শুনতে পারেনি। গত পাঁচ বছর আগে নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা নিয়ে আমাকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সমবেত হয়। ওই মাঠে তারকাটা ফেলে রাখা হয়েছিল বিভিন্ন মোটরসাইকেল পাংচার করার জন্য। তখন গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা আমাকে সতর্ক করে দিয়েছিল যাতে ইসলামপুরে না যাই। তার নির্দেশে পৌর মেয়র, চেয়ারম্যান সোহরাব, চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, কাউন্সিলর আরিফুল ইসলামসহ অনেক নেতাকর্মীদের নামে মামলা হয়েছে। নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে।

আমার ছোট বোনের দেবরকে দুটি পা গুঁড়াগুঁড়া করে পঙ্গু করে দিয়েছে, হত্যা করতে চেয়েছিল তার নির্দেশে। এ সময় ধানমন্ডির প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারের কথা উল্লেখ করে মালেকের উদ্দেশ্যে বেনজীর আহমদ বলেন, ওই সময় এর জবাব দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু দীপু মনি আমাকে থামিয়ে দিয়েছিল। (২০১৭ সনের ১৪ আগস্ট ঢাকার প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারে জেলা আওয়ামী লীগের কর্মিসভায় এম এ মালেক এমপি থাকাকালীন বলেছিলেন, বেনজীর আহমদকে ১০ লাখ টাকা দেওয়ার পর তাকে (মালেককে)  উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়েছিল। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের)।

গতকাল রবিবার (১০ নভেম্বর) বিকেলে ধামরাই ঢুলিভিটার একটি কমিউনিটি সেন্টারে ধামরাই পৌর আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গতকালের সম্মেলনের শেষ দিনে সাবেক এমপি মালেককে ঘিরেই বক্তব্য ছিল প্রত্যেক নেতার। ধামরাই পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব গোলাম কবির মোল্লা সভার সভাপতিত্ব করেন।

সভাপতির বক্তব্যে পৌর মেয়র আলহাজ্ব গোলাম কবির মোল্লা বলেনঃ বিগত সময়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। হিন্দু ধর্মালম্বিদের রথযাত্রা নির্বিঘ্নে পালন ও জঙ্গী হামলার আশংকায় জনগনকে নিরাপদ রাখতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী একটি পদক্ষেপ নেয়, সেই পদক্ষেপে নিয়ে একটি জটলার সৃষ্টি হয় এবং আমাকে অযথা সেই ঘটনার সাথে জড়িয়ে হয়রানি করা হয়। আমি সঠিক ছিলাম তাই আমি কোনভাবেই দোষী হইনি। আওয়ামীলীগের একজন কর্মী হিসেবে আমি সে সময় ধামরাই উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মালেক ভাইয়ের কোন সহায়তা পাইনি।

এর আগে গত ৮ তারিখ হতে পৌর আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়। গত ৮ নভেম্বর ৪,৫,৬ নং ৯ নভেম্বর ৭,৮,৯ এবং ১০ নভেম্বর ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষনা করা হয়। দীর্ঘ ৭ বছর পর ধামরাই উপজেলার পৌর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হলো এবার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধামরাই উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও ঢাকা ২০ আসনের সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এম এ মালেক, জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম রতন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মাসুম খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ মাসুদ খান লাল্টু, সাবেক যুগ্ম সচিব আওয়ামী লীগ নেতা দেওয়ান আফসার উদ্দিন জিন্নাহ, বাবু নন্দ গোপাল সেন প্রমুখ।

এসময় আরোও উপস্থিত ছিলেন, শফিক আনোয়ার গুলশান, যুবলীগ নেতা হাফিজুর রহমান, ধামরাই উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার মাহবুব তুষার, কাউন্সিলর আরিফুল ইসলাম আরিফ, মোহাম্মদ আলী, সাহেব আলী, জাকির হোসেন, আব্দুর রহমান বাবুল প্রমুখ সহ ধামরাই উপজেলার আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাএলীগ নেতাকর্মী বৃন্দ।

পৌরসভা আওয়ামীলীগ ওয়ার্ড পর্যায় সভাপতি/সম্পাদক হলেন যারা, ১ নং ওয়ার্ড  সভাপতি : বাবু প্রাণ গোপাল, সম্পাদক, আলমগীর হোসেন।

২ নং ওয়ার্ড সভাপতি : ওয়াজ উদ্দীন,

সম্পাদক :এডভোকেট খলিলুর রহমান মুখর।

৩ নং ওয়ার্ড সভাপতি : মুক্তিযোদ্ধা আহমেদুর,

সম্পাদক : হারুন অর রশিদ।

৪ নং ওয়ার্ড সভাপতি: কামাল হোসেন, সম্পাদক এখলাস উদ্দিন।

৫ নং ওয়ার্ড সভাপতি: রমিজ উদ্দিন সাঈদ, সম্পাদক,

৬ নং ওয়ার্ড সভাপতি: লুৎফর রহমান, সম্পাদক মোজল হক।

৭ নং ওয়ার্ড সভাপতি: জিন্নাহ আলম, সম্পাদক, ফজলুল হক।

৮ নং ওয়ার্ড সভাপতি: আনোয়ার হোসেন নুরু সম্পাদক, মোঃ আলী।

৯ নং ওয়ার্ড সভাপতি: শাহাদাৎ হোসেন, সম্পাদক, বানু বাদশা।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments