
রাজিউল হাসান পলাশ: ঢাকার ধামরাইয়ে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় পাঁচজন দগ্ধের মধ্যে সবশেষ জীবিত হোসনা বেগম (৩৫) মারা গেছেন। এনিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচজনে।
মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে শনিবার (৭ জানুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার কুমড়াইল কবরস্থান সংলগ্ন দোতলা বাড়ির নিচ তলায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে স্বামী-স্ত্রীসহ ৫ জন দগ্ধ হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়।
হোসনা বেগমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া। তিনি জানান, মরদেহটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. এসএম আইউব হোসেন জানান, মারা যাওয়া হোসনা বেগমের শরীরের ২৫% দগ্ধ হয়েছিল।
এর আগে রবিবার (৮ জানুয়ারি) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫% দগ্ধ শিশু মরিয়মের মৃত্যু হয়। এছাড়া মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) ৭০% দগ্ধ গৃহবধূ জোসনা বেগমের মৃত্যু হয়। এরপরে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে মারা যান ৭৫% দগ্ধ সাদিয়া আক্তার। বুধবার (১১ জানুয়ারি) মারা যান ৩৩% দগ্ধ মনজুরুল ইসলাম। সবশেষ ২৫% দগ্ধ হয়ে জীবিত ছিলেন হোসনা বেগম। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় সকলের মৃত্যু হলো।
দগ্ধ মনজুরুলের বাড়ি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জের উপজেলায়।
দগ্ধদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রতিবেশী ভাড়াটিয়া মো. নিজাম শেখ জানান, শনিবার ভোরের দিকে বিকট একটি শব্দ শুনতে পাই। এরপর ওই ভবনের নিচতলা থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখি। পরে বাসাটির ভেতর থেকে পাঁচজনকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়।
স্বজনদের ধারণা, ভোরে রান্নার জন্য চুলায় আগুন জ্বালানোর পর লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে।
