
ঢাকার ধামরাইয়ে তিন ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নেয়ার জন্য সদ্য রোপন করা ফসলের উপর দিয়ে দীর্ঘ রাস্তা বানিয়েছে একটি ইটভাটার মালিকপক্ষ। ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, তাদের না জানিয়েই জোরপূবর্ক ভেকু দিয়ে ফসল নষ্ট করে ইটভাটায় মাটি নেয়ার জন্য রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানায় অভিযোগ করে মাটি ব্যবসায়ীদের হুমকির মুখে আছেন তারা।
ধামরাই উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের কালামপুরে ধাইরার চকে গিয়ে এসএনবি ব্রিকস নামে একটি ইটভাটার এমন স্বেচ্ছাচারিতার প্রমাণ মেলে। চাষকৃত কৃষি জমি কেটে ও ইটের টুকরো ফেলে প্রায় ১৫০০ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট প্রশস্থ রাস্তা করা হয়েছে। রাস্তাটি সরাসরি চকের পাশে এসএনবি ব্রিকসের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, ধাইরার চকের অধিকাংশ জমিতে তিন ফসলি আবাদ চাষ হয়। এখানকার কৃষকরা সেই ফলনের উপর নির্ভর করে তাদের পরিবারের ভরণপোষণ চালান। গতকাল সকালে হঠাৎ করেই চকের পাশে এসএনবি ব্রিকসের লোকজন ইটভাটায় মাটি নেয়ার জন্য ভেকু দিয়ে তাদের ফসল নষ্ট করে বিশাল রাস্তা বানায়। আমার ১৭ শতাংশ জমি কিছুদিন আগেই চাষ করে ইরি ধান লাগিয়েছিলাম। সেই ধানের চারা নষ্ট করে তার উপর দিয়ে মাটি আর ইট ফেলে তারা রাস্তা বানিয়েছে। জোরপূবর্ক ১০০-১৫০ জন লোক এনে তারা দিনভর এই কাজ করেছে। এসএনবি ব্রিকসের মালিক শওকত মুন্সী ও তার ভাই মাটি ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম তার সন্ত্রাসী বাহিনিদের নিয়ে এসব করেছে। আমরা ভয়ে বাঁধাও দিতে পারিনি। পরে থানা ও ম্যাজিস্ট্রেটকে জানিয়েছি।
ধইরার চকে ৩০ শতাংশ জমির মালিক সুমাইয়া আক্তার। প্রতিবন্ধী মা ও তার জীবিকা নির্বাহের একমাত্র মাধ্যম এই জমিটির ফসল। জোরপূর্বক তার জমির একাংশের উপর দিয়েও জোরপূর্বক মাটি কেটে রাস্তা বানানো হয়েছে বলে অভিযোগ সুমাইয়ার। তারা পাইকার নামে আরেক কৃষকেরও ২৬ শতাংশ চাষকৃত ধানের জমি কেটে রাস্তা বানানো হয়েছে বলেও অভিযোগ মিলেছে।
তিনি বলেন, কয়েকদিন আগেই অনেক কষ্টে দিনমজুর দিয়ে জমিতে ধান লাগিয়েছি। ওই ইটভাটার লোকজন গতকাল জোর করেই আমার জমি কেটে রাস্তা বানিয়েছে। জমিতে এসে আমার কান্না পাচ্ছে। এখন কিভাবে কি করব বুঝতে পারছি না। আমি এর বিচার চাই। ধামরাই থানা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে আমি লিখিত অভিযোগ করেছি। তখন প্রশাসনের লোক এসে তাদের ভেকু জব্দ করে নিয়ে যায়। কিন্তু তারপরও তারা আমাকে নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।
ফসল নষ্ট করে রাস্তা বানানোর বিষয়ে ধাইরার চকের পাশে অবস্থিত এসএনবি ব্রিকসে গিয়ে মালিক অভিযুক্ত শওকত মুন্সী, তার ভাই আমিনুর ইসলামকে পাওয়া যায়নি। আমিনুর ও ভাটা মালিক শওকত মুন্সীকে একাধিকবার ফোন করলেও ধরেননি।
ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফারজানা আক্তার বলেন, আমি ওইখানকার ভেকুটি আপাতত স্থানীয় মসজিদের ইমামের কাছে জিম্মায় দিয়েছি। যারা কাটছে তাদের ডাকছি, কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য। বিষয়টা জেনে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো।
