• রবি. এপ্রিল ২৬th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

ফরিদপুরে শ্বাসরোধে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ডাদেশ প্রদান

সেপ্টে. 25, 2022

বিজয় পোদ্দার, ফরিদপুর : ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে গলাটিপে হত্যার মামলায় স্বামীকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। একই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলার অপর তিন আসামীকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ফরিদপুরের নারী ও শিশু ট্রাইবুনাল, বিচারক জেলা ও দায়রা জজ প্রদীপ কুমার রায় সোমবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামীরা আদালতে হাজির ছিলেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি মোঃ সরোয়ার শেখ (৩৫)। তিনি মধুখালী উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের চুন্নু শেখের একমাত্র সন্তান। পেশায় ভ্যানচালক। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলে, সরোয়ার শেখের মাতা ছাহেরা বেগম (৫৫) এবং মামা ওবায়দুল শেখ (৪৫) ও আলিয়ার শেখ (৬০)। নিহত ওই গৃহবধূ ফরিদা বেগম উপজেলার বাগাট গ্রামের রাশেদ শেখ ও মর্জিনা বেগমের বড় মেয়ে ছিলো। ২০১৭ সালের ৬ জুলাই ফরিদার লাশ উদ্ধার করা হয়। এর ১৩ দিন পরে ফরিদার মা মর্জিনা বেগম বাদি হয়ে মধুখালী থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে তার মেয়ে তাকে মোবাইলে ফোন করে জানায় যে, ৫০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য তার স্বামী তাকে মারপিট করছে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি লোক মারফত খবর পান যে, তার মেয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মারা গেছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে তিনি মেয়েকে জামাইয়ের বাড়ির বারান্দায় শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পান। এসময় তিনি মেয়ের গলায় ফোলা ও কাপড় পেচানো দাগ দেখতে পান। এ ঘটনার পর পুলিশ আলামত জব্দ করে লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় এবং মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করে। এদিকে, লাশের ময়নাতদন্তে গৃহবধু ফরিদাকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যার রিপোর্ট পাওয়া যায়। এ অবস্থায় আদালতে একটি নিয়মিত মামলা রুজু হওয়ায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান ইতোপূর্বে দায়েরকৃত অপমৃত্যু মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন আদালতে।
মামলার পর্যবেক্ষণে বিচারক বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্টে নিহতের গলায় চারটি আঘাতের চিহ্ন ছিলো। তাকে গলাটিপে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয় এতে। রাষ্ট্রপক্ষ আসামী সরোয়ার শেখের বিরুদ্ধে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন,২০০০’ এর ১১(ক) ধারার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হওয়ায় উল্লেখিত আসামীকে ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হলো।
এছাড়া আসামীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত করা হলো। আসামীর গলায় রশি লাগিয়ে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখা হোক। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ আসামী ছাহেরা বেগম, মোঃ ওলিয়ার শেখ এবং ওবায়দুল শেখগণের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত করতে না পারায় তাদের খালাস প্রদান করা হলো। মামলায় মোট নয়জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষী দেন। মামলায় আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট নারায়ণ চন্দ্র দাস এবং রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট স্বপন পাল। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট স্বপন পাল বলেন, এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আদালত ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি বলেন, এই রায়ের মধ্যে দিয়ে সমাজে অপরাধ প্রবনতা হ্রাস পাবে।
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments