এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী চাঁদ দেখার উপর ঈদুল ফিতর উদযাপন হয়ে থাকে। তারই ফলশ্রুতিতে রমজান মাস কখনও ৩০ দিনে কখনও কখনও ২৯ দিনে হয়ে থাকে। যদিও ইতালীসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশ সব সময়ই সৌদি আরব এর সাথে ঈদ পালন করে আসছে। কিন্তু এবারই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
মোহাম্মদ আল আমীন (রোম) : ঈদুল ফিতরের দিন কখনও বির্তক সৃষ্টি হয়নি, যার মূল কারন ছিল মধ্যপ্রাচ্যের সাথে মিল রেখে এখানকার মুসলিম কমিউনিটি রোজা শুরু করতো এবং শেষ করতো। এ নিয়মের মধ্যে শুধুমাত্র যে ইতালী ছিল তা না, ইউরোপের প্রতিটি দেশ এ নিয়ম মেনে আসছে। ভৌগলিক কারনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ,সৌদিআরব সময়ের দিক থেকে ১ ঘন্টা এগিয়ে সেই সুবাদে সেখানে চাঁদ দেখার সুযোগ কিছুটা আগে হয়ে থাকে। তারই প্রেক্ষিতে কিছুটা আগে থেকেই ইতালীস্থ মুসলিম কমিউনিটি ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে থাকে। যার ব্যাতিক্রম হয়নি এবারও। ২৯ রোজার শেষের দিকে যখন মধ্যপ্রাাচ্যে ০৪ জুন ঈদুল ফিতর ঘোষনা করা হলো, তার সাথে সাথে ইতালী সহ ইউরোপের প্রতিটি দেশ ঈদের আনন্দে ভাসতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শুরু হয়ে গেল। কিন্তু বিপর্যয় ঘটলো তখনই যখন রোমের কেন্দ্রিয় মসজিদ ঘোষনা দিল চাঁদ দেখা যায়নি, আগামী ০৫ জুন ইতালীতে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে। এই ঘোষনার সাথে সাথে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়লো মুসলিম কমিউনিটি। একটি গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়ে দিল ০৪ জুন ঈদুল ফিতর অপর গ্রুপ ঘোষনা দিল ০৫ জুন ঈদুল ফিতর। প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু মসজিদ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তহীনতায় থাকলেও রাত বাড়ার সাথে সাথে স্ব স্ব মসজিদের কর্তৃপক্ষের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে অনেক মসজিদ কর্তৃপক্ষ নিজেদের মত পাল্টে সিদ্ধান্ত নেন ০৪ জুন ঈদুল ফিতর। যা প্রায় মোট কমিউনিটির ৯০% এ গিয়ে ঠেকেছে।
যে প্রশ্নগুলো ঘুরে ফিরে সর্বস্তরের মানুষের মনে আসছে তা হলো-
১. রোমস্থ কেন্দ্রিয় মসজিদ এ কি আদৌ কোন গ্রহনযোগ্য চাঁদ দেখাার কমিটি রয়েছে, যার সিদ্ধান্তক্রমে পুরো ইতালীর মুসলিম কমিউনিটি বিভক্ত ?
২. রোমস্থ কেন্দ্রিয় মসজিদ এর কি আদৌ চাদঁ দেখার মতো আধুনিক সরঞ্জাম রয়েছে যার ফলে চাঁদ দেখার মতো গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে?
৩. ইসলামিক চিন্তাবিদদের মতে কোন দেশের ভূখন্ড থেকে চাঁদ দেখা গেলেই সেই দেশে আরবি সাল গণনা শুরু হয়। আর যেকারনে প্রতিটি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চাঁদ দেখাার উপকমিটি থাকে। রোমের সেন্ট্রাল মসজিদ এর এ ধরনের কোন ব্যাবস্থা ছাড়াই কি করে সিদ্ধান্ত দিয়ে দিল?
৪. ভৌগলিক অবস্থানের দিক দিয়ে রোম শহর ইতালীর অপেক্ষাকৃত দক্ষিন পূর্বে অবস্থিত, শুধুমাত্র রোমে বসে পুরো ইতালীর সিদ্ধান্ত কতোটা যুক্তিসঙ্গত ?
৫. গতকাল রোমের আকাশ ছিল অনেকটাই মেঘাচ্ছন্ন, এই মেঘাচ্ছন্ন আকাশে কি করে রোমের সেন্ট্রাল মসজিদ সিদ্ধান্ত নিল ০৫ জুন ঈদুল ফিতর?
যাহা করনীয় ছিল
১. রোমের কেন্দ্রিয় মসজিদ যখন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিল ঠিক তখনই রোমস্থ সকল ওলামা কেরাম একত্রিত হয়ে সকলে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারতো।
২. যেহেতু ইতালীতে নিযুক্ত মান্যবর রাষ্ট্রদূত নিজেই ০৪ জুন ঈদ পালন করেছেন, সেহেতু কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থে তিনি অফিসিয়াল ভাবে ঈদের তারিখ ঘোষনা দিতে পারতেন।
৩. যেহেতু প্রায় ৯০% মসজিদ এর দায়িত্বশীলগণ ৪ জুন ঈদ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে বাকি ১০% এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া উচিত ছিল।
এধরনের সিদ্ধান্তে যা হয়ে গেলঃ
১. কমিউনিটিতে একটি খারাপ দৃষ্টান্ত থেকে গেল।
২. ধর্মীয়ভাবেও কমিউনিটি দুভাগে ভাগ হয়ে গেল, যা ইতালীস্থ বিধর্মীদের কাছে তথা প্রশাসনের কাছে একটি লজ্জস্কর বিষয়।
৩. রোমের কেন্দ্রিয় মসজিদের সচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে গেল
৪. কোনআন হাদিস ইজমা কিয়াস এর পর যেকোন সমস্যার সমাধান আসে আমীরে দ্বীন থেকে , ইতালীস্থ মুসলিম কমিউনিটির কাছে তা নষ্ট হয়ে গেল।
প্রবাসে এমনিতেই ঈদের আনন্দ বলতে তেমন কিছু নেই, তারপর এ ধরনের ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক।সকল কিছুর পরও আমরা আল্লাহপাকে কাছে ফরিয়াদ জানাই হে আমাদের রব, সকল মুসলিম উম্মাহকে এক করো, নেক করো এবং হায়াতের সাথে মওম করো। সকলের প্রতি ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা রইল- ঈদ মোবারক
