
রাজিউল হাসান পলাশঃ ঢাকার ধামরাইয়ে কাওয়ালীপাড়া-বালিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের ভিতর সিরামিক্স কারখানার এক নারী শ্রমিককে ধর্ষণ করতে না পেরে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় একজনকে আটক করেছে ধামরাই থানা পুলিশ
গতকাল রাতে ওই নারী শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। লাশের গলায় ও গায়ে বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ও কামিজ ছেড়া ছিল। যে বাসের ভিতর ওই শ্রমিক ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছিল ওই বাসসহ এক চালককে ও গ্রেফতার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ।
পুলিশ পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামের শাজাহান মেন্টুর মেয়ে মমতা বেগম(১৮) ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ডাউটিয়া এলাকায় একটি সিরামিক্স কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে। প্রতিদিন ওই কারখানায় সকাল ৬ টা থেকে কাজে যোগদান করতে হতো। গতকাল শুক্রবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মমতার মা জুলেখা বেগম তার মেয়েকে বাড়ি পাশ থেকেই একটি বাসে উঠিয়ে দেয়। দিন গড়িয়ে সন্ধা হলেও শ্রমিক মেয়ে আর বাড়ি ফিরে আসেনি।
পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজখবর নিলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করে মেয়ের ভাই। পরিবারের লোকজনসহ প্রতিবেশীরা রাতে কাওয়ালীপাড়া-বালিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে পাশদিয়ে খুজঁতে থাকে, এসময় হিজলীখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীত দিকে ফণির পরিত্যাক্ত ঘরের পাশে জঙ্গলের মধ্যে লাশ দেখতে পায়। পরে থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।
লাশ উদ্ধারের পর ধামরাই থানা পুলিশ মেয়ের মায়ের কথার বর্ণনা অনুযায়ী বাস ও বাসের চালক ফিরোজ হোসেন সোহেল (৩১) কে আটক করে। আটককৃত আসামী সোহেল রাজবাড়ি জেলার পাংশা থানার ঘালকোলা এলাকার আমানত খানের ছেলে। আসামী কাঠালিয়া এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ের জামাই।
কাউলিপাড়া ফাড়ির এস আই আবু সাইয়্যীদ জানান, তদন্তের এক পর্যায়ে আমি ও আমার সঙ্গীয় ফোর্স বাস চালক সোহেল কে আটক করি এবং জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আসামী বলে ধর্ষন চেষ্টাকালে মেয়েটি তার হাতের আঙ্গুল কামড় দিয়ে কেটে ফেলে এজন্য সে মেয়েটিকে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে। ভিক্টিম এর গলায় ওড়না জড়ানোর মত দাগ রয়েছে এছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধর্ষিত হয়েছে কি না জানার জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়েছে।
