ইতালীতে অফিসিয়ালী কোন বাংলাদেশী নোবেল করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। অথচ ইতালিতে করোনাভাইরাসে এক বাংলাদেশী আক্রান্ত; আতঙ্কিত প্রবাসীরা! এই শিরোনামে একটি মহল বাংলাদেশ এবং বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে ইতালি প্রবাসীদের আতঙ্কিত করে তুলছে। যদিও মিলানের অবস্থিত ঐ বাংলাদেশী হসপিটালে নয় বরং বাসায় অবস্থান করছেন।
এ বিষয়কে নিয়ে রোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল মিলানের পক্ষ থেকে জানায়, মিলানোতে এক প্রবাসী সর্দি জ্বরের নিয়ে হসপিটালে গেলে তাকে চিকিৎসা করিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং করোনা ভাইরাস নিয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক চিন্তিত নয় বলে তাকে বিশ্রামে থাকতে বলে। আর এ বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি মহল বিভিন্ন প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে প্রবাসীদের আতঙ্কিত করে তুলছে, যা আদৌ উচিত নয়।
ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার প্রবাসীদের আতঙ্কিত নয় বরং সতর্ক হতে হবে এবং ইতালিয়ান সরকারের স্বাস্থ্যসেবার সকল প্রকার আইন মেনে চলার অনুরোধ করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন যে কোন খবর পেলেই তা যাচাই বাচাই না করে, প্রচার করা উচিৎ নয়। প্রবাসীদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সর্তকতা মূলক খবর প্রচারে প্রতি তিনি অনুরোধ করেন।
এছাড়াও রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ সরকারের নতুন নিদের্শনামতে প্রবাসীদের দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে দূতাবাস থেকে অবশ্যই স্বাস্থ্য পরিক্ষার সার্টিফিকেট নিতে হবে।
ইতালীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও, সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে যাওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতালীয়ান সরকার সতর্কতা মূলক একটি আইন জারি করেছে। যা সকলকে অনুসনরন করতে বলা হয়েছে।
ইতালীর প্রধানমন্ত্রী জোসেপ্পে কন্তের মাধ্যমে scientific and technical committee’র নতুন নিয়মাবলীতে বলা হয়েছে নিয়ম তৈরি করেছে, ৩০ দিনের জন্য পুরো ইতালি জুড়ে ইভেন্ট, খেলাধুলা যা ভিড় করতে পারে তা এড়িয়ে চলা। ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের বাসায় থাকা, বেশি বয়সী বা যারা অসুস্থ, তাদের ভিড়ের জায়গায় না যাওয়া। কারো আমন্ত্রনে যতটুকু সম্ভব, আলিঙ্গন, হ্যান্ডশেক এবং চুম্বন সম্বোধন এড়িয়ে চলা। অন্যান্য ব্যক্তিদের থেকে কমপক্ষে ১ থেকে ২ মিটার দূরে থাকা। অসুস্থদের কক্ষ থেকে স্বজনদের দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিশ্রামাগারে বৃদ্ধ অতিথির পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা সীমাবদ্ধ করতে বলা হয়েছে।
