বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স ছাড়াই এলপি গ্যাস বিক্রি করছেন খুচরা বিক্রেতারা
তৈয়বুর রহমান তুহিন চরফ্যাশন ভোলা : বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স এবং দুর্ঘটনা এড়ানোর যথাযথ ব্যবস্থা ছাড়াই শুধু ট্রেড লাইসেন্সের জোরে ভোলা জেলায় ছোট-বড় বাজারে মুদি দোকান, হার্ডওয়্যার, ফাস্টফুড, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার। জনবহুল কিংবা আবাসিক এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এই এলপি গ্যাস সিলিন্ডারগুলো দোকানের সামনে বা ভেতরে খোলামেলা অবস্থায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হচ্ছে। ফলে যেকোনও সময় ঘটতে পারে বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির মতো ঘটনা।
ভোলা জেলার প্রতিটা উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিস্ফোরক অধিদফতরের সনদ ছাড়াই স্থানভেদে ৩০ থেকে শুরু করে শতাধিক এলপি গ্যাস সিলিন্ডার দোকানে মজুত করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। খুচরা এলপি গ্যাস বিক্রেতারা সংশ্লিষ্ট আইন না মেনেই এ ব্যবসাটি চালিয়ে যাচ্ছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এ জ্বালানির যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থা তারা রাখছেন না।
এলপি গ্যাস বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলোর ডিলাররা বিস্ফোরক অধিদফতরের সনদ নিলেও খুচরা ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডার মজুতে আইন অনুসরণ করছেন না। ব্যবসা পরিচালনায় সাধারণ ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করলেও ১০টির বেশি সিলিন্ডারে আবশ্যকীয় সনদ তাদের নেই। ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার রাখার নিয়ম থাকলেও দোকানের মালিকরা তাও রাখছেন না। অথচ নিয়ম অনুযায়ী এলপি গ্যাস ব্যবহার, বিপণন ও বাজারজাত করতে হলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়ীকে বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স ও অগ্নিনির্বাপক গ্যাস সিলিন্ডার বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষণ করার কথা।
খুচরা এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বেশির ভাগই আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে অবগত নয়। তারপরেও তদারকির অভাবে ঝুঁকি জেনেও তারা সনদ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এলাকার সচেতন ব্যক্তিদের মতে, যত্রতত্র অবাধে পেট্রোল ও গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ফলে যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণহানি ঘটতে পারে। তাই লাইসেন্সবিহীন সিলিন্ডার বিক্রি ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিস থেকে বলেন, ‘একটি গ্যাস সিলিন্ডারই একটি বোমা। তাই অগ্নিপ্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন ২০০৩-এর ৪ ধারা মোতাবেক কোনও জ্বালানি নিয়ে কেউ ব্যবসা করলে (মজুত, প্রসেসিং প্রক্রিয়াকরণ এ্যাক্ট:) তাকে বিধান অনুযায়ী ফায়ার লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় উক্ত আইনের ১৭ ও ১৮ ধারা মোতাবেক ৩ বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড এবং উক্ত দোকান বা স্থানের মালামাল বাজেয়াপ্ত করা হতে পারে।’
বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সূূত্রে জানা গেছে, ১০টির বেশি এলপি গ্যাসপূর্ণ গ্যাসাধার রাখলে যেকোনও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে বিস্ফোরক অধিদফতরের সনদ নিতে হবে। সনদ ছাড়া ব্যবসা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং দেশের অনেকেই তা মানছে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

