• শুক্র. এপ্রিল ১৭th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

ধামরাইয়ে জোরপূর্বক জমি দখলে রাখার অভিযোগ, বারংবার বিচারেও মিলছে না সমাধান

মার্চ 2, 2026

ধামরাই প্রতিনিধিঃ ঢাকার ধামরাইয়ে ক্রয়কৃত সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত ২০ বছর ধরে তাদের বৈধ জমি ভোগদখল করতে দিচ্ছে না দখলদারেরা। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বিচার হলেও সেই রায় অমান্য করে দখল বজায় রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ধামরাই উপজেলার কুশুরা ইউনিয়নের বান্নাখোলা গ্রামের জমির উদ্দিন ও রাজ্জাকের জমি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে একই এলাকার মফিজ ও রহমান নামের দুই সহোদর। এঘটনায় জমির সীমানা নির্ধারণ ও জটিলতা নিরসনে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করেছে ভুক্তভোগী দুই পরিবার।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ধামরাই উপজেলার বান্নাখোলা মৌজার আর এস ২২ ও ২৪ নং দাগে ২৭ শতাংশ জমির মালিক মো. জমির উদ্দিন ও গিয়াস উদ্দিন আর ২৬ দাগে রাজ্জাক মালিক ১০ শতাংশের। এই জমির মাঝে বসবাসকারী মফিজ ও রহমান নিজেদের জমির বাইরে উভয়দিকে প্রায় ৪ ফুট প্রস্থ্যে এবং প্রায় ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য নিয়ে জমি নিজেদের দখলে রেখেছে। দুই ভাই ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমিটি ঘিরে রেখেছে। ভুক্তভোগীরা জমির নিয়মিত খাজনা-খারিজ প্রদান করলেও জমিতে পা রাখতে পারছেন না। জমির দখল চাইতে গেলে মারধর করে এবং হত্যা করার হুমকি দেয়।

অভিযুক্ত মফিজ ও রহমান স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে জানা যায়। ইতিপূর্বে উক্ত জমির সীমানা নিয়া স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে একাধিকবার মাপঝোপ করে সীমানা নির্ধারন করা হলেও বিবাদীরা পূর্বের ন্যায় সীমানার খুটি উঠিয়ে নিয়ে যায়।

গত ০২/০১/২০২৫ তারিখ বিকেলের দিকে স্থানীয় মাতাব্বর সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ হাজির থেকে জমি মাপঝোপ করে নিরপেক্ষভাবে সীমানা নির্ধারন করে সিমেন্টের খুটি স্থাপন করে যায়। এরপর বিবাদীরা উক্ত খুটি উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ভুক্তভোগীরা বিবাদীদের সীমানার খুটি উঠাতে নিষেধ করিলে বিবাদীরা পুনরায় গালিগালাজ সহ গুলি করে হত্যা করবে বলে হুমকি প্রদান করে।

একই প্রক্রিয়ায় আনুমানিক ৬ মাস পূর্বে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে দুই পক্ষে দুই আমিন রেখে সীমানা নির্ধারন করা হয়। কিন্তু সেই নির্ধারন সীমানা মাপ অভিযুক্তরা তখন মেনে নিলেও বর্তমানে এই মাপ মেনে নেয় না।

এবিষয়ে জানতে মফিজের কাছে গেলে তিনি বলেন, আমাকে ঘরে আটকে রেখে মাপ দিছে। জমি আমি বুঝিয়ে দিবো আমাকে সময় দিতে হবে। আপনাকে একাধিকবার সময় দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে সে অপ্রাস‌ঙ্গিক কথা বলে।

স্থানীয় আউলাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তি বলেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তি সহ সঠিকভাবে মেপে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিলো। মফিজ ও রহমান বিচারের সময়ে সকলের সিদ্ধান্তের সাথে একমত হলেও পরে সে আর বিচারের রায় মেনে নেয় না। এ বিষয়টা একটা সুন্দর সমাধান না হলে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।

অভিযোগের ব্যাপারে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments