
রাজিউল হাসান পলাশঃ ঢাকার ধামরাইয়ের মেয়ে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী এলমা হত্যার বিচার দাবিতে শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় ধামরাই প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন ধামরাইয়ের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ৷
এলমা হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে ধামরাই প্রেসক্লাবের সামনে ধামরাইয়ের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য ও বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী সমবেত হয়৷ এসময় মানববন্ধনে এলমার বাবা সহ আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন।
ধামরাইয়ের বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, অংকুর, রক্ত সৈনিক, নিরাপদ সড়ক চাই, স্বপ্নডানা, সচেতন নাগরিক সমাজ, ইচ্ছে আলো, কালের কন্ঠের শুভ সংঘ নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার লোকজন এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন।
এলমার হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে এলমার বাবা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমার মেয়েকে খুন করা হয়েছে৷ আমার সন্তানকে পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বিয়ের পর ইফতেখার ও তার মা–বাবা এলমাকে পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে বলে। এলমা পড়া বন্ধ করতে না চাওয়ায় ইফতেখার ও তার মা–বাবা মিলে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতো। রক্ষণশীল এক প্রবাসী ব্যক্তির সাথে ফেসবুকে পরিচিত হয়ে ঘরোয়াভাবে তার বিয়ে হয়৷ আমার মেয়েকে ঘরে আটকে রাখতো, আমরা আমাদের মেয়েকে ডিভোর্সের কথা বলেছিলাম কিন্তু সে নির্যাতন সহ্য করেও ছিলো৷ আমার মেয়ে ঘর হতে বের হতে পারতো না৷ পাষণ্ড খুনীদের বিচার চাই এইসব কথা বলতে বলতে মেয়ের শোকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বাবা সাইফুল ইসলাম।
স্বপ্নডানা পরিবারের সভাপতি ও এলমার ফুপাতো ভাই শাহরিয়ার ফেরদৌস রানা বলেন, আমার বোনের শরীরের জখম দেখে চমকে গেছি, সারা শরীরে দাগ আর দাগ৷ এমন নৃশংস হত্যার বিচার চাই।
প্রথম আলোর সিনিয়র সহকারী সম্পাদক ও ধামরাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মাহমুদ ইকবাল বলেন, এটি একটি ন্যক্কারজনক ঘটনা । এলমার পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন, তাকে মানসিকভাবেও নির্যাতন করা হয়েছে। এটি খুবই মর্মান্তিক। আমরা এর দ্রুত তদন্তের দাবি রাখি। এই হত্যাকারীরা সমাজের দুর্বৃত্ত, এরা সাধু সাজার চেষ্টা করে। এই ধরনের অপমৃত্যু বন্ধ হোক।
ধামরাই সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন বলেন, আমাদের এ ঘটনার সম্পর্কে সোচ্চার হয়ে থাকতে হবে, কারণ আমরা জানি এমন অনেক বিচার প্রভাবশালী লোকদের প্রভাবের ফলে তার সুষ্ঠু বিচার পাওয়া যায় না৷ আমরা তার পরিবারের পাশে আছি ৷ তাদের সমবেদনা জানানো ছাড়া আর কিছুই নেই৷ তবে তার বিচার দাবিতে আমরা তাদের সাথে আছি৷
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন অংকুরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মঞ্জুরুল হক রনি বলেন, এ জঘন্য ঘটনার বর্ণনা কিভাবে দিতে হয় তা আমি জানি না, আমি বাকরুদ্ধ৷ আমি শুনেছি সে তার স্বামীর সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিত হয়েছে৷ ফেসবুক ব্যবহারে আরোও সচেতন হতে হবে। এলমা হত্যার বিচার চাই।
গত (১৪ ডিসেম্বর) বিকেল চারটার দিকে রাজধানীর বনানীতে স্বামীর বাসায় মারা যান ইলমা। তার শরীরে আঘাতের অনেক চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন এলমার পরিবার। পরিবার ও সহপাঠীরা হত্যা দাবি করলেও এলমার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বলছেন এলমা আত্মহত্যা করেছে।
