রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়ার করা মামলার শুনানির শুরু হয়েছে। মিয়ানমারের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে দেশটির গণতান্ত্রিক নেত্রী শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চি আদালতে হাজির হয়েছেন। গাম্বিয়ার পক্ষে আছেন দেশটির আইনমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদু।
মামলার শুনানির শুরুতে প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের নির্বোধ হত্যাকাণ্ড বন্ধে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী।
আদালত কক্ষে গাম্বিয়ার আইনজীবী দলের সদস্যরা যখন মিয়ানমারের নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরছিলেন তখন নির্বিকার দেখা যায় অং সান সু চিকে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যা চালিয়ে মিয়ানমার বৈশ্বিক সনদ লঙ্ঘন করেছে কি না, তার বিচারই আইসিজের এই শুনানির উদ্দেশ্য। একই শহরের ১০ কিলোমিটারের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), যেখানে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এর আগে উত্থাপিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন।
দ্য হেগ শহরের শান্তি প্রাসাদে যখন যুগান্তকারী এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে। এ সময় আদালতের বাইরে রোহিঙ্গা সহ বাংলাদেশী ও বিদেশীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
এসময় সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলাম সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা মিয়ানমারের শান্তি প্রতিষ্ঠায় শ্লোগান দেয়
আত্মপক্ষ সমর্থন করে ১১ ডিসেম্বর বক্তব্য উপস্থাপন করবে মিয়ানমার। এরপর ১২ ডিসেম্বর হবে যুক্তিতর্ক। প্রথমে গাম্বিয়া যুক্তি দেবে, এরপর মিয়ানমার তা খ্লনের সুযোগ পাবে।
প্রসঙ্গত, নেদারল্যান্ডের হেগে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিস বা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গত নভেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধ মামলাটি দায়ের করে গাম্বিয়া।
