• বুধ. আগস্ট ১২th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

পানির অভাবে পাট জাগ দিতে বাড়তি খরচ, বিপাকে সালথার চাষিরা

আগস্ট 11, 2026

মনির মোল্যা,সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
পাট কাটার মৌসুমে জমিতে পানি নেই। ফলে পাট কেটে দূরের খাল, নদী কিংবা পুকুরে নিয়ে জাগ দিতে হচ্ছে ফরিদপুরের সালথার কৃষকদের। এতে বেড়েছে শ্রম ও পরিবহন খরচ। তবে সম্প্রতি খাল-বিল ও নদীনালায় কিছুটা পানি আসায় পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নদী, খাল ও বিলের পানিতে পাট জাগ থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন কৃষকেরা। কেউ আঁশ ছাড়াচ্ছেন, কেউ আঁশ ধুয়ে শুকানোর জন্য প্রস্তুত করছেন। এ সময় কৃষকদের ব্যস্ততায় মুখর হয়ে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়।

কৃষকেরা জানান, চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই পাট চাষে নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক জমিতে সেচ দিতে হয়েছে। পাট কাটার সময়ও জমিতে পানি না থাকায় কাটা পাট নিয়ে যেতে হয়েছে দূরের জলাশয়ে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

সালথা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৩ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে তোষা পাটের বিভিন্ন জাতের আবাদ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে জেআরও-৫২৪ (নাবিল) জাতের পাটের।

সালথার কৃষকদের কাছে পাট ও পেঁয়াজ অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। এসব ফসলের ওপর নির্ভর করে উপজেলার অনেক কৃষক পরিবারের জীবিকা। তাই পাটের ফলন ও বাজারদরের ওপর তাঁদের আয় অনেকটাই নির্ভরশীল।

যদুনন্দী এলাকার পাটচাষি মিরাজ মোল্যা বলেন, ‘পাট কাটার সময় জমিতে পানি ছিল না। তাই পাট কেটে যানবাহনে করে খাল ও নদীতে নিয়ে জাগ দিতে হয়েছে। এতে বাড়তি খরচ হয়েছে। এখন পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছি। পাটের দাম ভালো না পেলে আমাদের লোকসান হবে।’

আরেক কৃষক আলী বিশ্বাস বলেন, ‘কেউ কেউ পুকুরে পানি দিয়ে পাট জাগ দিয়েছেন। পাট পরিবহন, জাগ দেওয়া ও শ্রমিকের পেছনে খরচ বেড়েছে। তাই উৎপাদন খরচের সঙ্গে মিল রেখে পাটের ন্যায্যমূল্য চাই।’

উপজেলা উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল বারী বলেন, মৌসুমের শুরুতে বৃষ্টি না থাকায় কৃষকদের বাড়তি সেচ দিতে হয়েছে। পাট কাটার সময়ও জমিতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় অন্যত্র নিয়ে জাগ দিতে হয়েছে। এতে কৃষকদের খরচ কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেজাউল করিম বলেন, চলতি মৌসুমে সালথায় ১৩ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবাদ শুরুর সময় থেকেই কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখন পাট কাটা ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। তবে আবহাওয়ার কারণে এ বছর পাটের ফলন খুব বেশি ভালো হয়নি।

১১ আগষ্ট ২০২৬

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.