• শনি. জুলাই ১৮th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

সালথা উপজেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ৪ বিবাহিত নেতা, দু’জনের আছে সন্তানও

জুলাই 17, 2026

মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত ১৫ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটির চারজন নেতা বিবাহিত বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে দু’জনের সন্তানও রয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ২২ জুন ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু ও সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েস স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে উপজেলা ছাত্রদলের ১৫ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে রেজাউল ইসলাম (রাজ) সভাপতি এবং সোহেল মাতুব্বরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাতুব্বর, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ রাকিব, সহ-সভাপতি মো. রাজীব হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তানভীর হোসেন বিবাহিত।

জানা গেছে, সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাতুব্বর ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর প্রেমের সম্পর্কের পর ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বেলেশ্বর রামকান্তপুর গ্রামের সুরাইয়া সুলতানাকে বিয়ে করেন। পরে দাম্পত্য কলহের জেরে দেনমোহর ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত মামলা হয় এবং তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। বর্তমানে তিনি পুনরায় বিবাহ করে সংসার করছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ রাকিব প্রায় চার বছর আগে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া গ্রামের এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

সহ-সভাপতি মো. রাজীব হোসেনও উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের লক্ষণদিয়া গ্রামের এক নারীর সঙ্গে সামাজিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি জানান, “বিয়ে হয়েছে। তবে কমিটির কারণে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্ত্রীকে বাড়িতে তুলে আনা হয়নি।”

অন্যদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তানভীর হোসেন ২০২৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর সদর উপজেলার হাটগোবিন্দপুর গ্রামের আবিদাকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। তাদের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তানভীরের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তার মা আফরোজা বেগম বলেন, “তানভীর বিবাহিত। তার একটি ছেলে সন্তান রয়েছে এবং তারা আমাদের বাড়িতেই থাকে।”

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাতুব্বর বলেন, “আগে বিবাহিতদের নিয়ে কমিটি গঠন নিয়ে কিছু আলোচনা ছিল। কিন্তু এখন এ বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ নেই। আমাদের কমিটির বিষয়টি জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারাও অবগত আছেন।”

সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ রাকিবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইলে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করে সরাসরি সাক্ষাতের কথা বলেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ফরিদপুর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সৈয়দ আদনান হোসেন অনু ও সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হাসান কায়েসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার বলেন, “কমিটি ঘোষণার আগে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। পরে জানতে পারি, কমিটিতে চারজন বিবাহিত রয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জনের সন্তানও রয়েছে। পাশাপাশি অনেক যোগ্য ও ত্যাগী কর্মীকে মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে।”

১৭ জুলাই ২০২৬

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.