• শুক্র. আগস্ট ২৮th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

নগরকান্দা’য় এক নারী’র গর্ভের সন্তানের দাবী দুই স্বামীর

জুন 10, 2019

মনির মোল্যা :   ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় এক স্ত্রীর গর্ভের সন্তানের দাবী করছেন দুই স্বামী। এই নিয়ে কয়েক দফায় গ্রাম্য সালিশ হয়েও কোন ফায়সালা করতে পারেনি সমাজপতিরা।

ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার পুরাপাড়া ইউনিয়নের এক তরুনীর সাথে ১০ বছর আগে পাশর্^বর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার জুনাসুর গ্রামের বাদশা লস্করের ছেলে ছাবু লস্করের সাথে বিয়ে হয়।

দীর্ঘদিন সংসার করার পরে পারিবারিক কলহের জের ধরে ২০১৮ সালের ৩০ অগাষ্ট এফিডেফিট এর মাধ্যমে ছাবুকে তালাক দেয় ওই তরুনী। এরপর থেকে সে বাবার বাড়িতেই থাকতে শুরু করে।

এর মধ্যেই একই উপজেলার গোয়ালদী গ্রামের লাল মোল্যার ছেলে হেলাল মোল্যার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে ওই তরুনীর। প্রেমের সম্পর্ক থেকে গত ২৭ ডিসেম্বর দুই জনে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়। কিন্তু হেলালের সাথে বনিবনা না হওয়ায় ও পূর্বের স্বামী ছাবুর সাথে সখ্যতা গড়ে উঠায় গত ১ মার্চ হেলালকেও তালাক দেয় এই তরুনী।

তালাকের পরে ফিরে যায় প্রথম স্বামী ছাবুর কাছে। এরই মাঝে সন্তান সম্ভবা হয়ে পরে ওই নারী।

সেই সন্তানের বাবা দাবী করছেন এই নারী দুই স্বামীই। ছাবুর দাবী এটি তার সন্তান, হেলালেরও দাবী গর্ভের সন্তানের পিতা সে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার শালিস দরবার হলেও কোন সুরাহা হয়নি বিষয়টির।

এদিকে গত ২১ এপ্রিল হেলাল ওই নারীর বিরুদ্ধে ফরিদপুরের আদালতে মামলা দায়ের করে। মামলার উল্লেখ করা হয়, তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে ওই তরুনী ও তার বাবা-মা বাড়িতে থাকা স্বর্নালঙ্কার, আসবাবপত্র ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হেলাল জানায়, তিনি মামলা করাতে তাকে ওই নারীর বাবা ও স্বামী হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। তিনি দাবী করেন, ওই নারীর গর্ভের সন্তান আমার ঔরসের।

এই ব্যাপারে অপর স্বামী ছাবু জানান, এই ঘটনায় হয়রানী ও নির্যাতন করার অভিযোগ তার স্ত্রী হেলালের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করেছে। এসময় তিনিও গর্ভের ওই সন্তানের পিতা দাবী করেন।

এদিকে ওই নারীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি কোন সাংবাদিকের সাথে কথা বলবেন না বলে জানিয়েছেন।

পুরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান মিয়া বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করছি। আশা করছি সব পক্ষকে নিয়ে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিরা আলোচনা করে একটি সমাধান করতে পারবো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.