মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা সংখ্যালঘু শব্দে বিশ্বাস করি না। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ যে ধর্মের বা বর্ণেরই হোক না কেন, সবাই সমঅধিকার নিয়ে বাঁচবে। সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বিভিন্ন শারদীয় দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাহাপাড়া পূজামণ্ডপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, গত বছরের পূজা ও এ বছরের পূজার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব পালন করছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। এ সরকার সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত বছরের দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে সারা রাত পাহারা দিয়েছেন, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
পূজামণ্ডপে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিগত সরকারের সময়ের বরাদ্দের সঙ্গে চলতি বছরের বরাদ্দের তুলনা করে জানতে চান, এবার তাঁরা আগের চেয়ে বেশি বরাদ্দ পেয়েছেন কি না।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছর মানুষ কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পার করেছেন। তবে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে, ভাই ভাই হিসেবে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে উৎসব পালন করছেন। এটাই বাংলাদেশের সৌন্দর্য ও মাধুর্য। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে সম্প্রীতির এই বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অবস্থান তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বলেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। ধর্ম কিংবা বর্ণের পরিচয়ে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবেন—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।
নিজের বাবা, বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তাঁর বাবাও একসময় পূজামণ্ডপে আসতেন। তিনি যত দিন বেঁচে ছিলেন, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব মানুষের জন্য কাজ করেছেন।
এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, নিজেদের মধ্যে কোনো ধরনের কোন্দল সৃষ্টি করা যাবে না। সবাইকে মিলেমিশে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলাদলি পরিহার করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। জাতীয়তাবাদী দলকে আরও শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী অফিসার দবির উদ্দিন, থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আসাদ মাতুব্বর, বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শাহিন মাতুব্বর, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার আজাদসহ বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
১৯ অক্টোবর ২০২৬
