• শুক্র. নভে. ৬th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

ধামরাইয়ে শ্বশুরের আবদারে অন্যের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা করছেন চেয়ারম্যান

মে 7, 2023

ঢাকার ধামরাইয়ে ব্যাক্তি মালিকানার জমির উপর দিয়ে জোর করে রাস্তা তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে সোমভাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে।

রোববার (৭ মে) দুপুরের দিকে এমন অভিযোগ করেন সোমভাগ ইউনিয়নের ডাউটিয়া এলাকার ওই জমির মালিক মুন্নাফ ও আরফান।

জানা যায়, ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনের শ্বশুর ফরিদ হোসেন ডাউটিয়া এলাকায় একটি মসজিদ তৈরি করেছেন। সেই মসজিদের জন্যই একটি রাস্তা তৈরি করে দেয়ার জন্য ফরিদ হোসেন বায়না ধরেন (চেয়ারম্যানের কাছে) মেয়ের জামাইয়ের কাছে। শ্বশুরের আবদার রাখতেই গত শনিবার অন্যের জমির উপর দিয়ে জোর করে রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করেন চেয়ারম্যান। জমির মালিকদের না জানিয়েই ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক কে দিয়ে ওই জমিতে ট্রাক দিয়ে মাটি ফালানো হয়। পরে জমির মালিকরা ঘটনা স্থলে এসে বাঁধা দিলে ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক জোর করেই ওই জমিতে মাটি ফালাতে থাকে। এক পর্যায়ে জমির মালিকেরা ইউপি সদস্য কে মারতে গেলে তখন মাটি ফালানো বন্ধ রাখে।

জমির মালিক আরফান আলী জানান, আমরা কিছুই জানি না৷ আমাদের জমিতে মাটি ফেলার কথা শুনে জমিতে গিয়ে দেখি মালেক মেম্বার মাটি ফেলতেছে। আমরা বাঁধা দিলেও মেম্বার শুনে না। রাস্তা দরকার হলে দিবো কোন সমস্যা নাই। আমার পাশের যে জমি আছে সে ৩/৪ ফিট দিবে এবং আমি ৩/৪ ফিট জমি দিলে সুন্দর রাস্তা হয়ে যাবে। তা না করে শুধু আমার জমির উপর দিয়ে ২০ করে মাটি ফেলছে৷ এটা তো কেউ মানবে না।

জমির আরেক মালক মুন্নাফ মিয়া জানান, রাস্তার কথা আমি জানিই না৷ আমাকে কেউ কিছু বলে নাই। আর রাস্তার জন্য জায়গা দিলে আমি দিবো ২/৩ হাত জায়গা আর সেইখানে আমার জায়গা নিয়ে গেছে ১৫ হাত। আমার পাশের জমির মালিকের কাছ থেকেও ২/৩ হাত জায়গা নেয়া হোক এবং আমিও ২/৩ হাত জায়গা দিবো সমস্যা নাই৷ চলাচলের জন্য যতটুকু রাস্তা প্রয়োজন ততটুকু জায়গা আমি দিবো। কিন্তু এই ১৫ হাত জায়গা আমি দিবো না। প্রয়োজনে আমি আইনের সহযোগিতা নিবো৷

সোমভাগ ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল মালেক জানান, ওই পাশে চেয়ারম্যানের শ্বশুর একটি মসজিদ বানিয়েছে এছাড়াও কয়েকটি বাড়ি আছে। জমির মালিকের সাথে এর আগে মসজিদে বসে কথা হয়েছিলো রাস্তার জন্য জমি দিবে তারা। এর জন্য চেয়ারম্যানের কথা অনুযায়ী মাটি গতকাল ট্রাক দিয়ে মাটি ফেলি। কিন্তু সেসময় জমির মালিক আরফান, বাহাদুর, মুন্নাফ এসে আমাকে মারতে আসে এবং খারাপ ভাষায় বকাঝকা করে। পরে চেয়ারম্যানের কথা অনুযায়ী মাটি ফেলা বন্ধ রাখা হয়।

এবিষয়ে জানতে চাইলে সোমভাগ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন বলেন, দুই পাশের জমি থেকে ৩ ফিট করে ৬ ফিটের রাস্তা তৈরি করা হবে। আমার মেম্বারকে দ্বায়িত্ব দিয়েছিলাম সে হয়তো গরমিল করে ফেলছে। মাটি ওখানে রেখে দিতে বলেছিলাম পরে দুই পাশে ফিতা ধরে সমান করে মাটি ফেলবো। একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে আরকি। জমির মালিকদের সাথে বসে এটা ঠিক করে ফেলবো সমস্যা নাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.