• রবি. নভে. ৮th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

সখীপুরে সালিসি বৈঠকে অপ্রীতিকর ঘটনায় প্রতিপক্ষের ভয়ে অর্ধশত ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ

মার্চ 24, 2022

সখীপুরে সালিসি বৈঠকে অপ্রীতিকর ঘটনায়
প্রতিপক্ষের ভয়ে অর্ধশত ব্যবসায়ীর দোকান বন্ধ

“বাদল হোসাইন সখীপুর”
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সালিসি বৈঠকে অপ্রীতিকর ঘটনায় প্রতিপক্ষের ভয়ে ব্যবসায়ীদের দোকান পাট বন্ধ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৬০ টি দোকান বন্ধ রাখা হয়। উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের বাঘের বাড়ি হামিদপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সখীপুর থানায় লিখত অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এ নিয়ে ওই এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ব্যবসায়ীরা জানায়, বাঘের বাড়ি ও হামিদপুর দুই গ্রামের ছেলেদের মধ্যে মারামারি ঘটনায় বুধবার একটি সালিসি বৈঠক বসে স্থানীয় স্কুল মাঠে। সালিসি বৈঠক শেষের দিকে দুই গ্রামের কয়েকজন মানুষের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাঘের বাড়ি হামিদপুর বাজারে বাঘের বাড়ি এলাকার ব্যবসায়ীদের দোকান-পাট খোলতে নিষেধ করে দেয় হামিদুপুর গ্রামের কয়েকজন লোক। হামিদপুর এলাকার ব্যবসায়ীরা দোকান-পাট খোললেও বাঘের বাড়ি এলাকার কোন ব্যবসায়ী সারাদিন দোকান খোলতে পারে নাই। এ ঘটনায় দুপুরে সখীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ব্যবসায়ীন নেতা রফিকুল ইসলাম।
সরজমিনে গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ফলের দোকান, সবজির দোকান, ভাতের হোটেল, ইলেকট্রনিকস দোকান, কাপড়, সার বিষ, ডিজেল, পেট্রোলসহ বিভিন্ন দোকান সারাদিন ধরে বন্ধ। দুই গ্রামের ছেলেদের সাথে মারামারির ঘটনায় আমরা ব্যবসায়ীরা ব্যপক ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছি।
কাকড়াজান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল খালেক মাস্টার বলেন, সালিসি বৈঠকের অপ্রীতিকর ঘটনায় বাঘের বাড়ি এলাকার অর্ধশত দোকান-পাট বন্ধ করে দেয়া, এটা খুবই অমানবিক কাজ ও লজ্জা জনক।
বাঘের বাড়ি হামিদপুর বাজার বনিক সমিতির আহবায়ক রফিকুল ইসলাম বলেন, মারামারির ঘটনা ঘটলো দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে কিন্তু বাঘের বাড়ি এলাকার ব্যবসায়ীদের দোকান-পাট বন্ধ করে দেয়া খুবই দুঃখ জনক। এতে সারাদিনে ব্যবসায়ীরা প্রায় ১০/১২ লক্ষ টাকা বেচাকেনা বন্ধ হয়। আমরা ব্যবসায়ীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই বিষয়টি থানায় লিখত অভিযোগ করেছি। অল্প সময়ের মধ্যেই এর একটা সমাধান চাই।
এদিকে বুধবার বিকেলে ওই সালিসি বৈঠক শেষে হামিদপুর এলাকার মেছের উদ্দিন (৫৮), হারুন (৪৫), মাহমুদউল্লাহ (২৮) ও মেহেদী (২৫) আহত হয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা নেয়।
হামিদপুর এলাকার আব্দুস সামাদ মিয়া জানান, মারামারির ঘটনা সমাধানের জন্য একটি সালিসি বৈঠকে আরেকটি মারামারি ঘটনা ঘটছে। তাই বাঘের বাড়ি এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীকে বলা হয়েছিলো আর যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তাই তোমরা দোকান গুলা বন্ধ রাখ, এই সমস্যাটা সমাধান হোক। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কোন ব্যবসায়ী আমাদের কাছে কিছু না বলে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছে। আমারাও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই আইনের মধ্যে দিয়েই এর সুষ্ঠ সমাধান চাই।
সখীপুর থানার ওসি মোঃ রেজাউল করিম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনাটির পুরো ভিডিও নিচে দেওয়া হলো।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.