
মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদি ইউনিয়নের বাউষখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহিদুজ্জামান সাহিদকে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের অভিযোগে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভায় তাকে এ বহিস্কার করা হয়।
বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি সুত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারীক অঞ্জু মজুমদারকে বে-আইনিভাবে বরখাস্ত করেন প্রধান শিক্ষক সাহিদুজ্জামান। এ বিষয়ে অঞ্জু মজুমদার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিউজ প্রকাশিত হয়। এরপরে প্রধান শিক্ষক সাহিদুজ্জামানের অপসারণের দাবীতে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ এমদাদ ফকিরের সভাপতিত্বে জরুরী মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে সকল সদস্যর সম্মতিক্রমে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাত ও অঞ্জু মজুমদারকে বে-আইনিভাবে বরখাস্ত সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক সাহিদুজ্জামান সাহিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।


বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক সাহিদুজ্জামান সাহিদ বলেন, আমাকে ষড়যন্ত্র করে বরখাস্ত করেছে। নোটিশ পেলে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো। সহকারী গ্রন্থাগারীক অঞ্জু মজুমদারকে আমি বরখাস্ত করিনি। সাবেক কমিটি তাকে বরখাস্ত করেছে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ এমদাদ ফকির বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারীক অঞ্জু মজুমদারকে বে-আইনিভাবে বরখাস্ত, বিদ্যালয়ের ১৯ বিঘা কৃষি জমি হতে অর্জিত আয় আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় রেজিষ্টার সমূহ ব্যক্তিগত দখলে রাখা, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করে আত্মসাৎ, বিদ্যালয় কার্য পরিপর্ষদের চাহিদা মতে গত ৩ বছরের বিভিন্ন খরচের বিল বাউচার এবং আয়-ব্যায়ের হিসাব দিতে ব্যর্থ হওয়া সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক সাহিদুজ্জামান সাহিদকে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে।
বল্লভদি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন শিক্ষা কমিটির সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়ের সহকারী গ্রন্থাগারীক অঞ্জু মজুমদারের আহব্বানে ম্যানিজিং কমিটির জরুরী সভায় উপস্থিত থাকি। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি তাকে সাময়িক বহিস্কার করেছে। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সমূহ চুড়ান্তভাবে প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করবো। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবুল খায়ের বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সালথা উপজেলার সাবেক নির্বাহী অফিসার ও তৎকালীন বিদ্যালয়ের আহব্বায়ক কমিটির সভাপতি মোঃ মাকছুদুল ইসলাম বলেন, একটি মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী গ্রন্থাগারীক অঞ্জু মজুমদারকে কারণ দর্শানোর জন্য নেটিশ করা হয়েছিলো। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্তের জন্য ৩সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। কিন্তু তদন্ত কমিটির কোন প্রতিবেদন পাওয়া যায় নাই। বিধায় অঞ্জু মজুমদারকে বহিস্কার করা যায়নি।
