• শুক্র. এপ্রিল ২৪th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

সখীপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র ঘেঁসে ইটভাটা!স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে গ্রামবাসী

এপ্রিল 18, 2021

সখীপুরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র ঘেঁসে ইটভাটা!স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে গ্রামবাসী

সখীপুর(টাংগাইল)প্রতিনিধিঃ-
টাংগাইলের সখীপুর বহেড়াতৈল ইউনিয়ন গ্রামটিতে এখন ঝড়ে যাচ্ছে আম, লিচু, পেয়ারা ও ডাবের গুটি। নষ্ট হচ্ছে শাকসবজি ও ফসলের জমি। মাঝে মধ্যেই মারা যাচ্ছে কবুতরসহ গৃহপালিত হাঁস-মুরগি। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন গ্রামের বাসিন্দারা।
এর সবকিছুর পেছনে দায়ী একটি ইটভাটা। আবাসিক এলাকায় অনুমোদনহীন গড়ে ওঠা এই ইটভাটা থেকে নির্গত গরম বাতাস ও ধোঁয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
ইটভাটা ঘেঁষে রয়েছে একটি পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সেখানে গর্ভবতী মহিলা ও স্বাস্থ্যকর্মী কেউ যেতে পারে না ইটভাটার ট্রাফিট্রাক্টর যাতায়াতের কারনে। ধূলোর স্তুপ পড়ে আছে পুরো গ্রামে।সেখানে একটি বীর সেনানিবাস রয়েছে বসবাস অযোগ্য।ইটভাটা থেকে ১০০মিটার পশ্চিমে একটি হাই স্কুল,একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয় রয়েছে। ইট ভাটাটি স্থাপন করার সময় এলাকা বাসি বাধা দিলেও কাউকে তোয়াক্কা না করে স্থাপন করেন।এরপর ভাটার ইট পুরানো শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন সমস্যা তৈরী হতে থাকে।
কাঠ পোড়ানোর কারণে ভাটা থেকে সারাক্ষণ কালো ধোঁয়া বের হয়। ভাটার পাশে বুরো ধান রোপন করা হয়েছে বর্তমানে ক্ষতির মুখে।
বন অঞ্চলের গাছপালাও ক্ষতির মুখে পরতে থাকে। এ ছাড়া প্রতি বছর অন্তত একবার এই ভাটায় জমে থাকা গরম বাতাস নির্গত করা হয়। নির্গত এই বাতাস যেদিন প্রবাহিত হয়, সেদিকে গাছের ফল, ফসল ও গবাদিপশু মারা যায়। গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, ইট পোড়ানো কালো ধোঁয়ার পাশাপাশি প্রতিবছর একবার এই ভাটা থেকে গরম বাতাস নির্গত করা হয়। চলতি মৌসুমে সপ্তাহ দুই আগে এই গরম বাতাস নির্গত করা হয়েছে। এই বাতাস যেখান দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, সেখান দিয়ে গাছপালার পাতা পুড়ে কালো হয়েছে। নষ্ট হয়েছে গাছে থাকা আম, লিচু, ডালিম, পেয়ারাসহ বিভিন্ন ফল। নষ্ট হয়ে গেছে শাকসবজি বুরো ধান সহ বেশ কিছু ফসল।
ছোট ছোট বাচ্চা ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতে ভয় পায় মাটি ও ইট বহন করা ট্রাফি ট্রাক্টর এর কারনে।যে কোন সময় এক্সিডেন্ট হতে পারে। ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নেওয়ার জন্য প্রতিদিন অনেক লোককে পরিষদে আসতে হয়। সবার ভিতরে আতংক ইটভাটা ও ট্রাফি ট্রাক্টর।
সরেজমিনে ভাটা ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
গ্রামের বাসিন্দা নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, ভাটা তৈরির পর থেকেই গ্রামে এ অবস্থা তৈরি হচ্ছে। একদিকে ফল ও ফসল নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে ভুগছে শিশু ও বৃদ্ধরা।জৈনেক এক নারী বলেন ‘ভাটার জন্যি আমাগের গ্রামে কোনো পক্ষী (পাখি) আসে না। পুষা কবুতর পাখিও ঠাস করে পরে মরে যায়। এই ভাটার গরমেই এই রহম হয়।’
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ফসলি জমিতে ভাটা তৈরি করতে হলে কৃষি বিভাগের অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু কোনো অনুমোদন ছাড়াই ১২/১৩ বছর ধরে এই ইটভাটাটি চলছে। এই ভাটার কারণে ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। সরেজমিন ঘুরে প্রতিটি বিষয়ের সত্যতা পেয়েছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

তবে ইটভাটার মালিক আঃ রহিম গ্রামবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বৈধ কাগজপত্র নিয়েই ভাটা স্থাপন করা হয়েছে।
অনন্য বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এরিয়ে যান।
টাংগাইল পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম বলেন বহেড়াতৈল একটি ইট ভাটা আছে সেট আমি জানি।বন অঞ্চলের পাশে ইট ভাটা গড়ে ওঠা সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু ইট ভাটাটির কোন বৈধ কাগজ পত্র নাই।অবৈধ ইট ভাটাটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার চিত্রা শিকারী বলেন ইট ভাটা করতে হলে পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র লাগবে।ছাড়পত্র আছে কিনা সেটা দেখতে হবে।আর যদি বৈধ কাগজ পত্র না থাকে তাহলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments