বিশেষ প্রতিবেদক: ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেনসহকারী কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী হাকিম ইমদাদুল হক তালুকদার। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার পাশাপাশি সকলকে করছেন সচেতন। সম্প্রতি তিনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে নিত্যদিনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। পাঠকের সুবিধার্থে তা অধিকাংশ তুলে ধরা হলো:
প্রতিদিন ভোরবেলা (বাদ ফজর) শুরু হয় হয় আমাদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কাজ, চলে রাত অব্দি। পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রম। কিন্তু প্রশাসনের গাড়ী আর পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেলেই দেখা যায় তাবত সচেতনতা। চলে এলেই আবারও একই চিত্র। মানুষ নির্বিকার।
কিছু কমন চিত্র সকাল বিকেলের গ্রাম বাংলারঃ
১) সকালে বাজারে গাদাগাদি হয়ে বসে চা না খেলে দিনটা ঠিক জমেনা;
২) সকালের নাস্তাটা শহুরে মানুষের মত বাজারের রেস্তোরায় না করলে যেন জাত থাকেনা;
৩) বাজার বা রাস্তার মোড়ে এসে ভীড় করে দেখা চাই করোনা নিয়ে সরকারি ইদুর -বিড়াল খেলা;
৪) ভাত না খেয়ে হপ্তাখানেকও থাকা যায়, চা না খেয়ে এক বেলাও নয় (বউ নয় বাজারী চা);
৫) মহিমান্বিত সু (!) নাগরিকদের জীবন যেন জোরপূর্বক আমরা রক্ষা করতে চাইছি। তারা মরলে সরকারের কী?
৬) মসজিদে ভীড় বেড়ে গেছে কিনা ঠাহর করা কঠিন, তবে নামাজ পড়ার উছিলায় আশেপাশে পংগপালের মত ঘুরে বেড়ানোর অজুহাত ব্যাপক জুতসই ও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে;
৭) ওষুধের দোকানগুলো হয়ে উঠেছে আড্ডা আসক্তদের মনোরম ও নিরাপদ লালনকেন্দ্র;
৮) ঢাকা থেকে দ্যাশের বাড়ী আসা জোয়ান পোলাপাইন খোশ মেজাজে রয়েছে পাড়ার অন্য ছেলেদের নিয়ে চিপায়-চাপায় আড্ডায় মেতে;
৯) অনেক পাড়ার পাতি মাতব্বরগণ জাতির মহান দায়িত্বে নিজেদের নিয়োজিত রাখতে জটলা বাধিয়ে চা পান করতে করতে গণসচেতনতায় ব্যাস্ত। সরকারী লোক দেখলেই- ” স্যার, আমি এই পাড়ার অমুক, আমি এই বিষয়ে এটা ওটা নিয়ে ওদেরকে জ্ঞান বিতরণ করচি। আমি থাকতে আপনারা কোন টেনশান নিবেন না। আমি সদা কর্মতৎপর, সদা চেতিত জনতার সেবায় (!)
গুনতির বাইরে কত মানুষের মাঝে ঘাপটি মেরে বাসা বেধেছে করোনা, আমরা জানিনা।
এই সময়ে এদের জ্ঞান দাও প্রভু, এদের ক্ষমা কর…..
