কোরিয়ান শিক্ষার্থীদেরকে বাংলাদেশের উন্নয়নের অগ্রগতির গল্প শুনালেন রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম।
এই কথা বলতে দ্বিধা নেই গোটা বিশ্বে বাংলাদেশ বর্ণময় উন্নয়নের রোলমডেল। একুশ শতকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের গল্প তাবৎ রাষ্ট্র ও জাতি বর্ণনা করছে, বলছে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব বীরত্ব। পুরো দুনিয়ায় লাল সবুজের দেশটি অন্যতম নিয়ামক শক্তি। স্বাধীনতার আট চল্লিশ বছরে বাংলাদেশ অনেক বদলেছে। বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ। হ্যানরি কিসিঞ্জারের তলাবিহীন ঝুড়িখ্যাত এই রাষ্ট্র এখন নানা শিল্পে সংস্কৃতিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রসঙ্গকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন অভিযাত্রার সাফল্য গাথাঁ বিদেশীদেত তুলে ধরতে বিশেষ করে কোরিয়া নাগরিক ও ছাত্রছাত্রীদেরকে অবহিত করার লক্ষ্যে ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২৮ মার্চ বুধবার দক্ষিণ কোরিয়ার খ্যাতনামা “Chung Ang” বিশ্ববিদ্যালয়ে “Development Journey of Bangladesh” শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। Chung Ang বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগিতায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়াস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক জনাব উনহো সং এবং জ ইয়ন গুন ওয়েন। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম। রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যকালে কোরিয়ান শিক্ষার্থীরা তন্ময় হয়ে বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যর গল্প শুনলেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, গত দশকের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নের যেকোনো সূচকের বিচারে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। দারিদ্র্যের হার কমেছে, মেয়েদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অবদান বেড়েছে, জনসংখ্যা, গড় আয়ু, শিশুমৃত্যুর হার, মেয়েদের স্কুলে পড়ার হার, সক্ষম দম্পতিদের জন্মনিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গ্রহণের হার ইত্যাদি সামাজিক সূচকে বাংলাদেশ সমপর্যায়ের উন্নয়নশীল দেশকে পেছনে ফেলেছে।

তিনি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের গৃহীত অর্থনৈতিক কর্মসূচীত তুলে ধরে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় কোরিয়া সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করে আগামী দিন গুলোতে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক সম্পর্ক, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও পর্যটন বিষয়ে তিনটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করা হয়। সেমিনারে উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকগণ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশের ধারাবাহিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতি সম্পর্কে চলমান কার্যক্রম কোরিয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অবগত করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ সেমিনার আগামী দিনগুলোতে এ দুই দেশের বন্ধুপূর্ণ সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে বলে আশা করা যায়।

