• মঙ্গল. এপ্রিল ২১st, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

অক্টোপাস খেতে পছন্দ রোনালদোর

সেপ্টে. 27, 2021
রোনালদো

খেলা ডেস্ক

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সাফল্যবুভুক্ষু। সে জন্য ফিটনেস ঠিক রাখতে তাঁর চেষ্টার শেষ নেই। খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণে অ্যাথলেটদের জন্য তিনি আদর্শ—এ কারণে ৩৬ বছর বয়সেও কী চর্বিহীন পেশিবহুল পেটা শরীর!

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ফেরার পর ক্লাবটির বাবুর্চিও তা টের পেতে শুরু করেছেন। শুধু বাবুর্চি কেন, হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন রোনালদোর সতীর্থরাও।

 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রোনালদো তাঁর পছন্দের খাবারগুলো ইউনাইটেডের মেনুতে অর্ন্তভুক্ত করতে বলেছেন ক্লাবটির বাবুর্চিকে। কিন্তু তাঁর ক্লাব সতীর্থদের নাকি বিষয়টি পছন্দ হচ্ছে না।

পর্তুগিজ তারকা ওল্ড ট্রাফোর্ডে ফেরার পর এরই মধ্যে ক্লাবটির খেলার ধাঁচ ও পারফরম্যান্স পাল্টে গেছে। এখন ক্লাবের রসুইঘরের রান্নাও যদি রোনালদো পাল্টে দিতে চান, তাহলে সবার তা পছন্দ হবে কেন! খেলোয়াড় হলেও অনেকেই তো রসনার পূজারি। রোনালদোর কঠোর খাদ্যাভ্যাস তাই অনেকের ভালো না লাগাই স্বাভাবিক।

 

দ্য সান জানিয়েছে, রোনালদো তাঁর পছন্দের খাবারের তালিকা ইউনাইটেডের বাবুর্চির ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন। তাঁর কিছু পছন্দের খাবার সতীর্থদের ভালো লাগেনি। যেমন পর্তুগালের ঐতিহ্যবাহী ‘স্টু’ (ভাপে সেদ্ধ করা), ‘ব্যাকালু’—লবণে জারিত কড মাছ ও ডিম দিয়ে বানানো হয়। খাবারটা ভালো লাগেনি রোনালদোর সতীর্থদের।

ইউনাইটেডের এক সূত্র ট্যাবলয়েডটিকে বলেছেন, ‘সে (রোনালদো) অক্টোপাসও পছন্দ করে। কিন্তু বেশির ভাগই ওটা ছুঁয়েও দেখে না। যদিও রোনালদোর তা বেশ পছন্দের। সে প্রোটিন পছন্দ করে—হ্যামের টুকরা, ডিম ও অ্যাভাকোডা পছন্দ করে। এদিকে বাবুর্চিরা তাকে ঘরের স্বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

ইউনাইটেডে ফিরে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চার ম্যাচে এ পর্যন্ত ৪ গোল করেছেন রোনালদো। গত দুই যুগ ধরে কঠোর খাদ্যাভ্যাসের কারণেই পাঁচবার বর্ষসেরার পুরস্কার জেতার পাশাপাশি নিজেকে বিশ্বসেরাদের কাতারে ধরে রাখতে পেরেছেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড।

বেশ কিছু কৌশলের ওপর নির্ভর করে নিজের ফিটনেসকে বাকিদের জন্য ঈর্ষণীয় করে তুলেছেন রোনালদো। অ্যাথলেটদের বিপাক ক্রিয়া সাধারণের তুলনায় দ্রুত হয়ে থাকে। রোনালদো তাই খেয়ে থাকেন অল্প, তবে বেশিসংখ্যকবার। মানে তিন থেকে চার ঘণ্টা পরপর খেয়ে থাকেন, সব মিলিয়ে দিনে প্রায় ছয়বার। অ্যালকোহল ছুঁয়েও দেখেন না। এমনকি ইউনাইটেডের শুক্রবারের ঐতিহ্যবাহী পুডিংও এড়িয়ে চলেন তিনি।

ওল্ড ট্রাফোর্ডের সূত্র দ্য সানকে আরও বলেছেন, ‘রোনালদো কয়েকজন খেলোয়াড়কে হয়তো পর্তুগিজ খাবারে আগ্রহী করে তুলতে পারে। তবে যারা ভেবেছিল, খাবারগুলো হয়তো নান্দুজের পেরি পেরি চিকেনের মতো হবে, তারা হতাশ হয়েছে। নিজের পছন্দের খাবার তার শরীরের ক্ষেত্রে হয়তো খাপ খায় কিন্তু বাকিরা পছন্দ করছে না।’

রিয়াল মাদ্রিদে থাকতে রোনালদোর ব্যক্তিগত পুষ্টিবিদ ছিলেন। শস্যজাতীয় খাবার, টাটকা ফল ও মাছ বেশি খেয়ে থাকেন রোনালদো। চর্বিহীন প্রোটিন সংগ্রহ করেন সোর্ডফিশ ছাড়াও নানা পদের সামুদ্রিক মাছ থেকে—যেমন কড মাছ। আর হ্যাঁ, মাছগুলো সব সময় টাটকা থাকতে হবে, হিমাগারের হলে চলবে না।

রোনালদোর সকালের নাশতায় থাকে পনির, লবণ মাখানো শূকরের মাংস, কম চর্বির দই, ফলফলারি। অ্যাভোকাডো ফলের টোস্টও খেয়ে থাকেন তিনি। তাঁর কাছে জাদুকরি খাবার হলো মুরগির মাংস—প্রোটিনে ভরপুর কিন্তু চর্বি কম।

রোনালদোর সঙ্গে ইউনাইটেডে একসময় খেলা এভরা পর্তুগিজ তারকার খাদ্যাভ্যাস নিয়ে একবার বলেছিলেন, ‘রোনালদো তার বাসায় নিমন্ত্রণ জানালে প্রত্যাখ্যান করার অনুরোধ করব। সে একটা যন্ত্র, কখনো অনুশীলন থামায় না। অনুশীলন করায় ভীষণ ক্লান্ত হয়ে তার বাসায় গেলাম। কিন্তু খাবার টেবিলে দেখলাম শুধু একটা সালাদ, মুরগির বুকের মাংস আর পানি, কোনো পানীয় নেই।’

By sporsho

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments