• বৃহস্পতি. এপ্রিল ৩০th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

হাসপাতালের বিল মেটাতে নবজাতক বিক্রি, মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিলো পুলিশ

জুন 29, 2020


রাজিউল হাসান পলাশঃ ঢাকার ধামরাইয়ে অভাবের তাড়নায় এক নবজাতককে বিক্রির তিনদিন পর উদ্ধার করে আবারো মা নাজমা বেগম (২৮) এর কোলে ফিরিয়ে দিয়েছে ধামরাই থানা পুলিশ। এ ব্যাপারে আজ সোমবার ২৯ জুন ধামরাই থানায় একটি মামলা হয়েছে।

আজ সোমবার (২৯ জুন) নবজাতককে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয় এবং এই ঘটনার সাথে জড়িত নার্স এবং এক দম্পতিকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে সুতিপাড়া ইউনিয়নের গুচ্ছ গ্রামের নাজমা বেগম প্রসব বেদনা নিয়ে ধামরাইয়ের ডাউটিয়া এলাকার রাবেয়া মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। পরে তিনি এক নবজাতক শিশুর জন্ম দেন। অভাবের তাড়নায় তিনি ওই হাসপাতালের নার্স সাদিয়া খাতুনের কথায় মাত্র ৫৬ হাজার টাকায় নিজের সন্তান সাভারের রাজফুলবাড়িয়া এলাকার হেলাল উদ্দিন ও সাথী আক্তার দম্পতির কাছে বিক্রি করে দেন। এই ঘটনায় নার্সসহ ওই দম্পতিকে আটক করা হয়েছে।

নাজমা বেগম জানায়, সন্তান বিক্রি করা যে অপরাধ সেটি জানা ছিল না তার। স্বামীর মৃত্যুর সময় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন নাজমা। ঘরে আট বছরের একটি মেয়ে, পাঁচ বছরের একটি ছেলে, সাত মাস আগে মারা যান বাবা আক্কাস আলী। গত দুমাস আগের স্বামীও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চলে যান না ফেরার দেশে। মাত্র চারদিন আগে মারা যান মা। মূলত স্বামী আর বাবার আয়েই চলতো নাজমার সংসার।

তিনি আরোও জানান, গত বৃহস্পতিবার ধামরাইয়ের ডাউটিয়া রাবেয়া মেমোরিয়াল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে (সিজার) এক পুত্রসন্তানে জন্ম দেন তিনি। সন্তানদের মুখে কিভাবে খাবার তুলে দিবেন? হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের বিল-ই বা পরিশোধ করবেন কিভাবে? এমন দিশেহারা পরিস্থিতিতে ওই হাসপাতালে নার্সের সহযোগিতায় মাত্র ৫৬ হাজার টাকায় বিক্রি করেন নবজাতককে।

ধামরাই থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, নাজমা বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সাদিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় তার দেয়া তথ্য অনুসারে ১২ ঘন্টার মাথায় নবজাতককে উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে তার মায়ের কাছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত নার্সসহ ওই দম্পতিকে আটক করা হয়েছে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments