
মনির মোল্যা, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় বাজারে দোকান চুরির ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি ও অপমান সহ্য করতে না পেরে এক পাহারাদারের আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম (৩০) উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া গ্রামের মৃত নজরুল শেখের ছেলে। তিনি পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা ও চার মাস বয়সী জমজ দুই পুত্র সন্তানের জনক ছিলেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এর আগে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাজারে শালিশ চলাকালে তিনি বিষপান করেন বলে বাজার কমিটি ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
নিহতের স্ত্রী জোস্না বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার স্বামী বড়দিয়া বাজারে নৈশপ্রহরী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পর থেকেই তিনি উদ্বিগ্ন ও চিন্তিত ছিলেন। কিছু জিজ্ঞেস করলে উত্তেজিত হয়ে বলতেন, কথা বলিস না, মাথা ঠিক নাই। পরে তিনি জানান, তার ডিউটি শেষে বাজারে চুরি হয়েছে এবং এ ঘটনার জন্য তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। স্ত্রীকে তিনি বলেছিলেন, জরিমানা দেবো কোথা থেকে? শরমের চেয়ে মরণ ভালো।
জেস্না বেগম আরও জানান, নির্বাচনের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি শালিশ বসে। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, যারা ডিউটিতে ছিলেন তারা ভাগাভাগি করে ক্ষতিপূরণ দেবেন। শালিশে স্বামী কিছু সময় নিয়ে সরে যান। পরে ফিরে এসে তিন সন্তানের কথা উল্লেখ করে বলেন, চুরির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। এ কথা বলেই তিনি ঢলে পড়েন। উপস্থিত লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
বাজার কমিটির সভাপতি আবু মেম্বার বলেন, আজাদ মোল্লা ইলিয়াস বাজারে টাকা উঠায় ওরা আমাকে বলে যে দেলোয়ার এর ঘরটা চুরি হয়েছে আমাদের একটু বসা লাগবে। আমি বলি এই মুহুর্তে না নির্বাচনের পরের দিন মাগরিবের সময় বসবো। এরপর গতকাল শুক্রবার বসি। জবানবন্দি নেয়ার সময় দেলোয়ার বলেন, ঘরের পিছনে টিন কেটে আমার ঘর চুরি হয়েছে। তখন আমি পাহাদারদের বলি যদি চুরিই হয় তাহলে তোদের কেনো রাখা হয়েছ? আমি বলি আমি এসব জানিনা। আমি শুধু এই বাজারের সভাপতি। তখন দোকানদারা ওদের দুই দিন সময় দেয়। আনুমানিক ৮০ হাজার টাকা মাল চুরি হয়েছে, ওকে কোনো অপবাদ দেয়া হয়নি ওকে সময় দেওয়া হয়েছিলো। ইলিয়াস ও আজাদ প্রেসার দিয়েছে কিনা আমার জানা নাই।
বাজারে টাকা উঠানোর দায়িত্বে থাকা আজাদ মোল্যা জানান, বাজারে দুইজন পাহারাদার হিসেবে তারা মাসে ২৪ হাজার টাকা বেতন পান। নির্বাচনের আগে এক রাতে পেছন দিক দিয়ে টিন কেটে প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকার মালামাল চুরি হয়। বিষয়টি বাজার সভাপতি আবু মেম্বারকে জানানো হলে শুক্রবার মাগরিবের পর বৈঠকে তিনি পাহারাদারদেরই ক্ষতিপূরণ দিতে বলেন। সভাপতি জানান, চোর ধরা না গেলে চুরি হওয়া সব মালামালের দাম পাহারাদারদের পরিশোধ করতে হবে। এ সময় অপর পাহারাদার ওহিদ তার তিন সন্তানের কথা বলে কসম কাটে মাটিতে ঢলে পড়েন।
গট্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু বলেন, আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। বাজারে একটি ভ্যানগাড়ির পার্টেস দোকানে চুরির অভিযোগ ওঠে। তখন পাহারাদারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। আবু মেম্বার বলেন, চোর ধরতে না পারলে পাহারাদার রেখে লাভ কী। পাহারাদার এক মিনিটের সময়ে নিয়ে যায় এবং দুই মিনিটের মধ্যেই সে ঢলে পড়ে। আমরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি সে বিকালে মারা গেছে।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাুর রহমান খান জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৪ ফেব্রুয়ারি২০২৬
