
মনির মোল্যা,সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের সালথায় এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রাতের আধারে টর্চ লাইট জ্বালিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গট্টি ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বালিয়া গ্রামের মো. জাহিদ মাতুব্বরের সাথে আড়ুয়াকান্দী গ্রামের নুরু মাতুব্বরের বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধের জেরে একাধিকবার ওই দুই মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরই জেরধরে শুক্রবার বিকেলে দাওয়াত খেয়ে ফেরার পথে জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থক আরিফ মাতুব্বরকে ভ্যান থেকে নামিয়ে মারধর করে নুরু মাতুব্বরের সমর্থকরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে সন্ধ্যায় উভয়পক্ষের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত টর্চলাইট জ্বালিয়ে চলে সংর্ঘষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ চলাকালে হামলা পাল্টা হামলা চালিয়ে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ থেকে ২৫টি বসতঘর ভাঙচুর করা হয় ও দুটি পাটকাঠি পালায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েকঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়| সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে| ওই এলাকার পরিবেশ এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বালিয়া এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে| সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
১৮ এপ্রিল ২০২৬
