রাজিউল হাসান পলাশ: সেতু নির্মাণ শেষ হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে অথচ দুই পাশের সংযোগ সড়ক না থাকায় ঢাকার ধামরাই উপজেলায় সোয়া চার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু কোন কাজেই আসছে না। দুই পারের লোকজন এখন ২৫ ফুট উঁচু বাঁশের মই লাগিয়ে সেতুটি পারাপার হচ্ছে। সেতু হয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার লোকের চলাচল ফলে সীমাহীন দুর্ভোগে পোহাতে হচ্ছে উভয় পাড়ের দশ গ্রামের বাসিন্দাদের।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার সুতিপাড়া ইউনিয়নের নওগাঁ এলাকার গাজীখালি নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। নওগাঁও, বাথুলী, বালিথা, ভাটারখোলা, বারপাইকা, কেষ্টিসহ ১০ টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ এই সেতুটি ব্যবহার করে। এখানে রয়েছে ৫০ নং নওগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আশরাফ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাট বাজার। তাই শতাধিক শিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছে হাজারো মানুষ। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যখন সেতু ছিল না, তখন দুই পারের মানুষ খেয়া নৌকা দিয়ে নদী পার হতেন নৌকায় মালপত্রসহ কৃষিপন্য বহন করা যেতো। সেতু হওয়ার পর নৌকা চলাচল বন্ধ হয়েছে। দূর্ভোগ লাঘবে এখানে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এখন উল্টো বিড়ম্বনায় পরতে হচ্ছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি কোন কাজে আসছে না। তাই বাধ্য হয়ে অনেকে মালামাল পরিবহনের জন্য কয়েক মাইল পথ ঘুরে যাতায়াত করছেন।
এ বিষয়ে আশরাফ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিয়াম উদ্দিন বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শতশত শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের কষ্ট করে ঝুঁকি নিয়ে মই বেয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে বাঁশের মই বেয়ে সেতুতে উঠতে গিয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহতও হয়েছে তাই অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহত্তর ঢাকা গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (৩) এর আওতায় গাজীখালি নদীর উপর ৪৫ মিটার দীর্ঘ পি.সি গার্ডার সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়। নির্মাণের সময় নির্ধারণ করা হয় ১ বছর। এতে ব্যয় ধরা হয় ৪ কোটি ২১ লাখ ৫৪ হাজার ২৭১ টাকা। সেতুর সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ৬৫৯ মিটার। সেতুর নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগ সড়কের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
সুতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এ কে এম সফিউজ্জামান স্বপন বলেন, তিন বছর আগে সেতু নির্মাণ শেষ হলেও এখনো সংযোগ সড়ক করা হয়নি। এ ব্যাপারে তাঁরা ঠিকাদারকে কয়েকবার তাগিদ দিয়েছেন কিন্তু কোন ফল না পেয়ে বাধ্য হয়েই এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে চাঁদা তুলে দুটি মই বসিয়ে সেতু পারাপারের ব্যবস্থা করেছেন।
সুতিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রমিজুর রহমান রোমা বলেন, সম্প্রতি উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি তুলে ধরেছি। ইতিমধ্যে কাজও শুরু হয়েছে বলে শুনেছি।
