• সোম. এপ্রিল ২০th, ২০২৬

সময় নিউজ

অনলাইন বাংলা নিউজ

পিশনাইল স:প্রা: বিদ্যালয়ে শতভাগ ফেল এলাকাবাসি হতাশ!

জানু. 15, 2020

মনির মোল্যা, সালথা, (ফরিদপুর) প্রতিধিনি:        ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদি ইউনিয়নের পিশনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০১৯ এর সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে বলে জানা গেছে।

ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শনোর নোটিশ প্রদান এবং জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক সহ চার শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০১৯ ইং সালের সমাপনী পরীক্ষায় পিশনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৭ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেন। এই পরীক্ষায় ১৭ জন শিক্ষার্থীই ফেল করেন।

এনিয়ে ফেলকৃত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বাবুর স্কুলে নিয়মিত না আসার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা তেমন হয়নি। প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় বাকি তিন শিক্ষক ঠিক মতো ক্লাস করায়নি। এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা এখন হতাশায় ভুগছেন।

এছাড়াও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত ক্ষুদ্র মেরামতের ১লাখ ৫০ হাজার, স্লিপের ৭০ হাজার, ওয়াশব্লকের ২০ হাজার ও প্রাকপ্রাথমিকের ১০ হাজার টাকা কাজের কোন হদিস নাই। সরেজমিনে গিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজের তেমন কিছু চোখে পড়েনি।

এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, কি কারণে সবাই ফেল করলো বুজতে পারছি না। তবে বিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে কাজ করেছেন বলে তিনি দাবী করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুর রহমান বলেন, উপজেলার ৭৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে পিশনাইল সরকারী প্রঅথমিক বিদ্যালয়ের শতভাগ ফেল করায় আমরা হতাশ। জাতীয়করণ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সাবেক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় (বদলী) করলে এই সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব বলে আমি মনে করি।

বল্লভদি ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম বলেন, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া কোনভাবে কাম্য নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ কোন ভাবেই এর দায় এড়াতে পারেন না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ এই ব্যর্থতার সঠিক কারণ উদঘাটন পূর্বক দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি মুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, পিশনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ ফেল করার জন্য প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলাম। কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রধান শিক্ষক সহ চার শিক্ষককে ঐ বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও অন্যন্য অভিযোগ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাসিব সরকার বলেন, পিশনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সহ চার শিক্ষককে সরিয়ে দেওয়া হবে। উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দকৃত সকল অর্থের হিসাব নেওয়া হবে। এছাড়াও পরবর্তীতে যারা এই বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে আসবেন, তাদের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নত করার সর্বচ্চ চেষ্টা করা হবে।

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments