রাজিউল হাসান পলাশ: ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার জনবসতি পূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠা কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানোর তিনটি অবৈধ কারখানা গুড়িয়ে দিয়েছে এবং বংশী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনকারী দুইটি ড্রেজার ধ্বংস করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার ০২ মার্চ ২০২২ দুপুরে মাটি খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে ৪ টি কারখানার ১৭ টি চুল্লি গুড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়া অবৈধভাবে বংশী নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করায় দুটি ড্রেজার জব্দ করে ইউএনওর নির্দেশে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়।
উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তারা জানান, বুধবার দুপুর ৩ টার দিকে বালিয়া ইউনিয়নের টেটাইল গ্রামে মো. নাহিদ রানা ও মো. ইমরানের যৌথ মালিকানার দুটি কয়লা বানানোর কারখানায় অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। এসময় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী এদুটি কারখানাসহ সদ্য নির্মিত অপর একটি কারখানা মাটি খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে গুড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। পরে পার্শবর্তী যাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ গাঁওতারা এলাকায় বংশী নদীর পাড়ে নুরুল ইসলামের অপর কারখানাটিও গুড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন তিনি। তাঁর নির্দেশনা অনুসারে এসকল কারখানার ১৭ টি চুল্লি গুড়িয়ে দেয়া হয়। অভিযানে সহায়তা করে ধামরাই উপজেলা বন বিভাগ।
এদিকে পরে অবৈধভাবে বংশী নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করায় বালিয়া ইউনিয়নের টেটাইল ও বালিয়া পূর্বপার এলাকার নদীর অংশ থেকে দুটি ড্রেজার জব্দ করে ইউএনওর নির্দেশে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে তিনটি কারখানায় অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করা হচ্ছিল। এছাড়া নতুন আরেকটি কারখানায়ও কয়লা বানানোর প্রস্তুতি চলছিল। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসকল কারখানা গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযান চালিয়ে বংশী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলায় দুটি ড্রেজারও ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জানুয়ারি মাসে ‘অবৈধ চুল্লিতে দূষিত পরিবেশ’ শিরোনামে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা বানানোর কারখানা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিলো।

